সারা দেশের পাশাপাশি মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে বীরভূমেও পালিত হল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। সকাল থেকেই বাড়ির ছাদে ছাদে উড়তে দেখা গেল জাতীয় পতাকা। স্বাধীনতা দিবসের আবেগে সাধারণ মানুষও সামিল হন দেশের বীর শহিদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতে।
সিউড়িতে বীরভূম জেলা প্রশাসন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলাশাসক ধবল জৈন। পতাকা উত্তোলনের পর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন জেলাশাসক ধবল জৈন, অতিরিক্ত জেলাশাসক শুভম আগরওয়াল অতিরিক্ত জেলাশাসক কৌশিক চট্টোপাধ্যায় অতিরিক্ত জেলাশাসক বুলবুল বাগচী ,সদর মহকুমা শাসক সুপ্রতিক সিনহা প্রমূখ। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রশাসন ভবন চত্বরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি পুরস্কৃত করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। এদিন জেলাশাসক ক্ষুদেদের সাথে ছবিও তোলেন।
বীরভূম জেলা পরিষদেও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস এই উপলক্ষে জেলা পরিষদে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ও আয়োজন করা হয়। সভাধিপতি ফাইজুল হক জেলা পরিষদে আসবেন বলে প্রথমে জানালেও কোন এক অজানা কারণে তিনি অনুপস্থিত থাকেন বীরভূম জেলা পরিষদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অতিরিক্ত জেলা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ।


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সিউড়ি ডাঙ্গালপাড়া রেড রোজ ক্লাবে আয়োজন করা হয় রক্তদান শিবিরের । আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন জেলাশাসক ধবল জৈন, উপস্থিত ছিলেন সদর মহকুমা শাসক সুপ্রতীক সিনহা, রেড রোজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বৃন্দসহ সমাজসেবী দীপক দাস, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শিবাজী মন্ডল প্রমুখেরা। সংগ্রাম, দেশের গৌরবময় ইতিহাস এবং জাতীয় চেতনার কথা তুলে ধরেন জেলাশাসক ধবল জৈন। পরে তিনি রক্তদাতাদের সঙ্গে মিলিত হন।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কলেজ পাড়ায় রেনবো ক্লাবেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় । সাধারণ মানুষের হাতে এদিন জাতীয় পতাকা ও বিতরণ করা হয়। সিউড়ি শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মূর্তিতে মাল্যদান করে পতাকা উত্তোলন করেন সিউড়ি শহর বিজেপি সভাপতি সুনয়ন ভান্ডারী। এদিন সন্ধ্যায় কার্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। বীরভূম জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এই শোভাযাত্রা বাস স্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে শহর পরিক্রমা করে।





অন্যদিকে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সকালে বাইক রেলি বের করা হয় বিকালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সিউরি নগরের পক্ষ থেকে সার্কিট হাউস মোড় থেকে সিউড়ি বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত তিরঙ্গা যাত্রা বের করা হয়। শনিবার বিকেলে সিউড়ি তিলপাড়া সম্মিলনী ক্লাব ময়দানে সাধনা ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে বন্দেমাতরম গানের সার্ধশত বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেড়শ কণ্ঠে “বন্দেমাতরাম” পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি সাজানো ফাউন্ডেশনের কচিকাঁচারা নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন এদিন দেশের বীর শহিদদের স্মরণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।





