‘হর ঘর তেরঙ্গা’—শুধু বাড়ির ছাদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নয়, তেরঙ্গাকে দেশের মানুষের আবেগ, ঐক্য ও দেশাত্মবোধের প্রতীক করে তোলার আহ্বান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনায় ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই অভিযান ধীরে ধীরে ‘জনভাগিদারি’র আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। এ বছর স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ৯ থেকে ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি।
তারই রেশ এবার স্পষ্ট বীরভূম জেলাতেও। ৯ আগস্ট থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, তেরঙ্গা যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছাত্রছাত্রীদের নানা কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে স্বাধীনতার আবহ তৈরি হয়েছে। আর সেই ধারাতেই বিশেষ তাৎপর্য পেল সিউড়ির বীরভূম জেলা স্কুলের ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি
পড়ুয়াদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার পাশাtপাশি স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে হয় কুইজ ও অঙ্কন প্রতিযোগিতাও। ইতিহাসের পাতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও দেশের প্রতি নাগরিকের দায়িত্বের বার্তাও দেওয়া হয়।
শুক্রবার জাতীয় পতাকা হাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অভিভাবকদের একাংশের নেতৃত্বে বের হয় তেরঙ্গা পদযাত্রা। বীরভূম জেলা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রা চৈতালি মোড় হয়ে প্রশাসন ভবনের দিকে যায়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিরে এসে শেষ হয় এই পদযাত্রা। হাতে হাতে তেরঙ্গা আর দেশাত্মবোধের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনায় ‘হর ঘর তেরঙ্গা’র মূল উদ্দেশ্যই হল জাতীয় পতাকার সঙ্গে সাধারণ মানুষের আবেগের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং স্বাধীনতার চেতনা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। মোদীর ভাষায়, তেরঙ্গা মানুষকে একত্রিত করে এবং দেশের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বীরভূমেও এবারের কর্মসূচি যেন ‘হর ঘর তেরঙ্গা’র পাশাপাশি ‘হর মন তেরঙ্গা’র বার্তা দিচ্ছে। সরকারি দপ্তর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে সাধারণ মানুষ—জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় পতাকাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ। বিশেষ করে স্কুলের পড়ুয়াদের যুক্ত করে স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৬-এর স্বাধীনতা দিবসের আগে তাই বীরভূমে তেরঙ্গা শুধু পতাকা নয়—নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস স্মরণ, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ারও মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির সেই আবেগই জেলা স্কুলের পদযাত্রায় যেন আরও একবার প্রকাশ পেল।





