তারাপীঠের ‘নিউবিদেশিনী হোটেলে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে রাজ্যজুড়ে হোটেল ও অন্যান্য আবাসিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দমকল প্রতিমন্ত্রী জানান, ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ স্থানীয় দমকল কেন্দ্রে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে হোটেলের আবাসিকরা আতঙ্কে ব্যালকনির কাছে চলে আসেন। দমকল কর্মীরা ল্যাডারের সাহায্যে তাঁদের একে একে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় হোটেলের মূল প্রবেশপথ দিয়ে ভিতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। দমকল প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ল্যাডার ব্যবহার করে মোট ৩৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যদিও জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় ঌ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাফিলতির অভিযোগে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান দমকল প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করা হবে এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোটেল পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হোটেলের বেশ কয়েকটি এক্সিট পয়েন্ট বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এমনকি কয়েকটি গেট প্লাইউড দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। হোটেল তৈরির ক্ষেত্রে কীভাবে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদিত হল, কীভাবে প্রয়োজনীয় পারমিট পাওয়া গেল এবং কীভাবে ফায়ার লাইসেন্স দেওয়া হল, সেই বিষয়গুলিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পিছনে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কিনা, তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে বলে জানান দমকল প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি স্থানীয় পুকুরে আগুনের আতঙ্কে কেউ ঝাঁপ দিয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সহযোগিতায় ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানোর কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মৃতদের পরিবারকে ডিএম এর ফান্ড থেকে চার লক্ষ টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ফান্ড থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে এবং আহত ব্যক্তিদের দু লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার বিদীতরাজ বুন্দেশ জানান, হোটেল থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে এক ব্যক্তি থানায় খবর দেন। খবর পেয়েই পুলিশ ও দমকল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। হোটেল মালিকের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠের হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে যখন প্রশ্ন উঠছে তখন তারাপীঠ থানায় পশ্চিমবঙ্গের দমকল ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীকৌশিক চৌধুরী বিধায়ক ধ্রুব সাহা জেলা পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মেঘালয় থেকে আসা একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেয়া হয়। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিবারের সদস্য ও মৃতদের সরকারি উদ্যোগে তাদের বাড়িতে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।





