স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে একদিকে দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ, অন্যদিকে অখণ্ড ভারতের দাবিতে পদযাত্রা—দুটি ভিন্ন কর্মসূচি একই দিনে সিউড়ির নাগরিক সমাজে ইতিহাস, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের এক ভিন্ন আবহ তৈরি করল। দেশভাগের যন্ত্রণা ও তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অপরণীয় ক্ষতি, বেদনা ও উদ্বাস্তু জীবনের স্মৃতিকে সামনে রেখে সিউড়ির সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা মোমবাতি হাতে পথে নামেন। পাশাপাশি অখণ্ড ভারতের দাবিতে মিছিল করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দক্ষিণ বীরভূম জেলা কমিটি।
দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ দিবস উপলক্ষে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে সিউড়িতে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শহরের সাংস্কৃতিক কর্মী, মননশীল মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকেরা হাতে মোমবাতি নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে পা মেলান বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনও। দেশভাগের ফলে যাঁরা ঘরবাড়ি, সম্পদ ও স্বজন হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। মুক্তমঞ্চে আয়োজন করা হয় দেশভাগের ইতিহাস ও তার অভিঘাত তুলে ধরা একটি প্রদর্শনীরও।

অন্যদিকে একই দিনে সিউড়িতে অখণ্ড ভারতের দাবিতে পথে নামে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দক্ষিণ বীরভূম জেলা কমিটি। ‘এক দেশ, এক সংস্কৃতি, এক ইতিহাস, এক গর্ব—একই লক্ষ্য, অখণ্ড ভারত’—এই বার্তা সামনে রেখে সিউড়ির এসপি মোড় থেকে শুরু হয় তাদের পদযাত্রা। হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা।

স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্তির প্রাক্কালে সিউড়ির এই দুই কর্মসূচি যেন ইতিহাসের দুটি অধ্যায়কে পাশাপাশি এনে দাঁড় করাল। একদিকে দেশভাগের ক্ষত, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা ও হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের স্মরণ; অন্যদিকে দেশকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও অখণ্ড রাখার প্রত্যয়ের দাবি। রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মসূচির ধরন আলাদা হলেও, দুটি উদ্যোগের মধ্যেই উঠে এসেছে দেশের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার বিষয়টি।

সিউড়ির সাংস্কৃতিক ও মননশীল মানুষের অংশগ্রহণে দেশভাগের বেদনা স্মরণ করার কর্মসূচি এবং অখণ্ড ভারতের দাবিতে পথযাত্রা—স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন শহরের জনজীবনে তৈরি করে ভিন্নমাত্রার জাতীয়তাবাদী আবহ। অতীতের ক্ষতকে স্মরণ করেই ভবিষ্যতের ভারতকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করে তোলার বার্তাই যেন দুই কর্মসূচির মধ্যবর্তী সেতুবন্ধন হয়ে উঠল।





