আষাঢ়ী্পূর্ণিমা তথা গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার সিউড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হয়। গুরু পূর্ণিমা হিন্দু ধর্মে গুরু-শিষ্য পরম্পরার অন্যতম পবিত্র উৎসব হিসেবে পালিত হয়।
এদিন সকালে সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের বড় মহুলার সিদ্ধ গণেশ আশ্রমে হোম-যজ্ঞে অংশ নেন সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আশ্রমে পূজা-অর্চনা ও যজ্ঞে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সকলের মঙ্গল ও শান্তি কামনা করেন।

পরে তিনি কড়িধ্যা সেনপাড়ার দামোদর মন্দিরে গিয়ে দর্শন ও পূজা দেন। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের হাতে প্রসাদ বিতরণ করেন।

সন্ধ্যায় মন্ত্রী সিউড়ি রবীন্দ্রসদনে অলংকার সংগীত মহাবিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত গুরু পূর্ণিমা উৎসবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে সংগীতাচার্য শান্তব্রত নন্দন উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান। সূচনায় অলংকার ও নান্দনিকের ছাত্রছাত্রীরা সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশন করে। মন্ত্রীও তাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবীণ শিল্পী সুচিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন।
গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে অলংকার সংগীত মহাবিদ্যালয় ও নান্দনিকের ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের সংগীতগুরু শান্তব্রত নন্দনকে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানান। একই সঙ্গে শান্তব্রত নন্দনও তাঁর গুরুজনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গুরু-শিষ্য পরম্পরার ঐতিহ্য তুলে ধরেন।


অন্যদিকে, রামপুরহাট ও বোলপুর এর পাশাপাশি সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে ‘আর্ট অফ লিভিং’- বীরভূম-এর উদ্যোগে আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী রবিশঙ্করজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়। এদিনের এই উদ্যোগে বহু মানুষ অংশ নেন।দিনভর সিউড়ির বিভিন্ন প্রান্তে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গুরু বন্দনার মধ্য দিয়ে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়।





