প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

উল্টোরথে ফেরার পালা, বীরভূমে ভক্তি ও ঐতিহ্যের আবহে সম্পন্ন রথ মহোৎসব 

রথযাত্রার মাধ্যমে মাসির বাড়িতে গমন, আর উল্টোরথে নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন—এই প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যকে ঘিরেই রবিবার বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হল উল্টোরথ উৎসব। রথযাত্রার দিন যেমন ভক্তদের ঢল নেমেছিল, তেমনি উল্টোরথেও দেখা গেল ধর্মীয় উৎসাহ, কীর্তন, পূজা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার দিনে শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মূল মন্দির থেকে রথে চড়ে মাসির বাড়িতে যান। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর উল্টোরথ বা বাহুড়া যাত্রার মাধ্যমে তাঁরা আবার নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তন উৎসবকেই উল্টোরথ নামে অভিহিত করা হয়। পুরীর জগন্নাথধামের মতো বাংলার বিভিন্ন এলাকাতেও এই প্রথা বহুদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে।

বীরভূমের তারাপীঠে উল্টো রথে মা তারা ফের জনসমক্ষে আসেন পথ পরিক্রমা করেন।সিউড়ির রাধাবল্লভ মন্দিরের রথ ,যাত্রিক ক্লাবের রথ ,সারদাপল্লী মহিলা পরিচালিত রথ সিউড়ির পথ পরিক্রমা করে।স্টেশন বাজার এলাকার দেবালয় ট্রাস্টের উদ্যোগে এ বছরও উল্টোরথ উৎসবে যথাযোগ্য মর্যাদায় রথযাত্রা কমিটি সহ ভক্তদের আপ্যায়ণের ব্যবস্থা করা হয়। রথযাত্রার দিন যে স্থান থেকে রথযাত্রা শুরু হয়েছিল, উল্টোরথে সেই একই স্থান ও একই আয়োজনের মধ্য দিয়েই প্রভু জগন্নাথের প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়। ভক্তরা রথের রশিতে টান দিয়ে প্রভুর মঙ্গলযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপক দাস। তিনি রথোৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রথযাত্রা ও উল্টোরথ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনের বার্তা বহন করে। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।রথের চারপাশে ভক্তদের ভিড়, হরিনাম সংকীর্তন, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তিমূলক সঙ্গীতে মুখর হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ উৎসবে অংশ নেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, উল্টোরথের দিনে রথের রশিতে টান দিলে জীবনে শুভ ফল লাভ হয় এবং সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি বাঙালির চিরন্তন লোকঐতিহ্যকেও স্মরণ করিয়ে দিল এ বছরের উল্টোরথ। রথযাত্রা থেকে উল্টোরথ—এই সম্পূর্ণ পর্ব যেন আবারও প্রমাণ করল, পরিবর্তনের যুগেও বাংলার সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe