সিউড়ি শহরের হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানালেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সিউড়ি রবীন্দ্র সদনে তুলসী সংগীত কল্যাণ সমিতির বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন। অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর আগে শহরের সমস্ত রাস্তার কাজ শেষ করতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করে শহরের ২৬টি রাস্তার কাজ নিয়ে আশার কথা শোনান মন্ত্রী।
তুলসী সংগীত কল্যাণ সমিতির বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র সদনে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। পুজোর আগমনী সুরে সংস্থার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন ভবানন্দ দাস। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মানবী সরকার, সন্দীপন রায়, প্রীতিকনা ভট্টাচার্য, সুব্রত নন্দন, নিখিলবিহারী ঘোষ, সৌরেন্দ্রনাথ ভান্ডারী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার এই মঞ্চে সিউড়ির ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ উঠে আসে। শহরের সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে মন্ত্রীর বক্তব্যে।অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিউড়ি শহরের রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পুজোর আগে শহরের সমস্ত রাস্তার কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রথমেই দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। কাজ শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে কয়েকটি কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তবে রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই প্রথম টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিউড়িতে রাস্তার কাজ হচ্ছে। যে সমস্ত ঠিকাদার কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।)সিউড়ি শহরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, শহরের ২৬টি রাস্তার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মুখ্যমন্ত্রী এবং সেই টাকা এসে পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সংস্থান রয়েছে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
পাশাপাশি, দুর্গাপুজোর পর শহরের উন্নয়নমূলক কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পুজোর আগে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় শহরবাসীর অসুবিধার কথা স্বীকার করে তাঁর এই বক্তব্য সিউড়ির নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
একদিকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সিউড়ির হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বার্তা, অন্যদিকে শহরের রাস্তা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—দুই বিষয়েই এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এখন শহরবাসীর নজর, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২৬টি রাস্তার কাজ গুণগত মান বজায় রেখে শেষ হয় কত দিনে তা দেখার।




