পর্দায় তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। কখনও ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’, কখনও আবার আবেগঘন চরিত্রে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। প্রিয় অভিনেতার জন্মদিনে তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভোলেন না বীরভূমের আমোদপুরের রঞ্জন। জীবিকার তাগিদে সারাদিন চায়ের দোকান সামলালেও মনের মধ্যে প্রিয় অভিনেতার জন্য বিশেষ দিনটির গুরুত্ব এতটুকু কমেনি।
অমিতাভ বচ্চনের ৮৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে যখন উচ্ছ্বাস, তখন সেই ভালোবাসারই এক আন্তরিক ছবি দেখা গেল বীরভূমের আমোদপুরে। রঞ্জন ছোটবেলা থেকেই অমিতাভ বচ্চনের ভক্ত। বয়স বেড়েছে, জীবনের অভিজ্ঞতা বেড়েছে, আর তার সঙ্গে বেড়েছে অমিতাভের অভিনীত সিনেমা দেখার আগ্রহও।আমোদপুরে ব্লক অফিসের সামনে একটি চায়ের দোকান চালান রঞ্জন। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, দোকানের কাজ এবং জীবিকার নানা হিসাবের মধ্যেও প্রিয় অভিনেতার জন্মদিনটি তাঁর কাছে এক বিশেষ উপলক্ষ। প্রতি বছর এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আয়োজন করেন তিনি।
সন্ধ্যা নামলেই চায়ের দোকানে টাঙানো হয় অমিতাভ বচ্চনের ছবি। এরপর কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন রঞ্জন। পরিচিত মানুষজনকেও সেই আনন্দে শামিল হতে ডাকেন। আয়োজন হয়তো জাঁকজমকপূর্ণ নয়, কিন্তু তার মধ্যে রয়েছে এক অনুরাগীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগ।
মুম্বইয়ের সঙ্গে বীরভূমের দূরত্ব কয়েক হাজার কিলোমিটার। কিন্তু প্রিয় শিল্পীর প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে সেই ভৌগোলিক দূরত্ব যে কোনও বাধা নয়, রঞ্জনের জন্মদিন উদ্যাপন যেন তারই প্রমাণ। মুম্বইয়ে অমিতাভের বাড়ির সামনে ভক্তদের সঙ্গে তাঁর দেখা করার মুহূর্ত যেমন অনুরাগীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ, তেমনই বীরভূমের এক সাধারণ চায়ের দোকানেও প্রিয় অভিনেতাকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।
চলচ্চিত্রের জগৎ শুধু পর্দার গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। শিল্পীর অভিনয় যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ, আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে মিশে যায়, তখনই তৈরি হয় এমন নিবিড় সম্পর্ক। আমোদপুরের রঞ্জনের এই উদ্যোগ সেই সম্পর্কেরই এক ছোট অথচ হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ।
প্রিয় তারকার জন্মদিনে কেক কাটা, ছবি টাঙানো আর কয়েকজন পরিচিত মানুষকে নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া—রঞ্জনের কাছে এ যেন নিজের মতো করে ভালোবাসা জানানোর উৎসব। এমন অনুরাগই শিল্পীকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখে এবং চলচ্চিত্রের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহকেও অনুপ্রাণিত করে।




