প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

সেনার পোশাকে রাজেশ গ্রামে ফিরতেই উৎসবের আমেজ দুবরাজপুরের চিনপাই গ্রামে

আর্থিক অনটনকে সঙ্গী করেই বড় হয়ে ওঠা। কিন্তু অভাব তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করার। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষ করে বাড়ি ফিরলেন বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের চিনপাই গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ বাগদি। সেনার পোশাকে গ্রামের ছেলেকে দেখতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে গ্রামবাসীরা। রাজেশের সাফল্যে খুশি গোটা এলাকা। রাজেশের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাঁর বাবা আদল বাগদি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেকে বড় করে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই অভাবের সংসারেই বেড়ে ওঠা রাজেশ ছোটবেলা থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে পড়াশোনা ও শারীরিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে চিনপাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন রাজেশ। পরে সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করে সিআরপিএফ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যান। কঠোর প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে সেনার পোশাকে গ্রামে ফেরার মুহূর্তটি তাঁর পরিবার ও এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ আনন্দের হয়ে ওঠে।রাজেশের বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। ফুল ছিটিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। ছেলের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা আদল বাগদি ও মা রিনা বাগদি। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর ছেলেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত হতে দেখে তাঁদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে গর্ব ও আনন্দ।নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে রাজেশ বলেন, “ছোট থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন দেশের হয়ে কাজ করে যেতে চাই।” অন্যদিকে, রাজেশের বাবা আদল বাগদি বলেন, “আমি রাজমিস্ত্রির হেল্পারের কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্টে ছেলেকে বড় করেছি। ছোট থেকেই ছেলের ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নিজের চোখে ছেলেকে সেনার পোশাকে দেখে সব কষ্ট ভুলে গিয়েছি। আমার ছেলে শুধু আমার নয়, গোটা গ্রামের গর্ব।”

গ্রামবাসীদের মতে, রাজেশের এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের নয়, গোটা চিনপাই গ্রামের গর্ব। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্য গ্রামের অন্যান্য তরুণ-তরুণীদেরও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe