প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

অতীত ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন ,কুড়ি বছর পর রবীন্দ্র সদনে মঞ্চস্থ ‘প্রেত শান্তি’

নাটকের শহর সিউড়িতে নাট্যচর্চা ও নাটক নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই রবীন্দ্র সদনে মঞ্চস্থ হলো বহুল চর্চিত নাটক ‘প্রেত শান্তি’। প্রায় দুই দশক আগে যে নাটক দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন তুলেছিল, কুড়ি বছর পর নতুন আঙ্গিকে সেই নাটকই আবার মঞ্চে ফিরল। পুরনো অভিনেতাদের উপস্থিতির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কচিকাঁচাদের মঞ্চে এনে নাটকটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা গণকণ্ঠ।

প্রায় কুড়ি বছর আগে নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক সুবিনয় দাস ‘প্রেত শান্তি’ নাট্যরূপে লিখেছিলেন। মানুষ মৃত্যুর পর প্রেত হয়ে যায়—সমাজে প্রচলিত এমন নানা বিশ্বাস, ভয় ও কুসংস্কারকে কেন্দ্র করেই নাটকের মূল বক্তব্য গড়ে উঠেছিল। মৃত্যুকে ঘিরে মানুষের অযৌক্তিক ভয় এবং সেই ভয়কে কেন্দ্র করে সমাজে তৈরি হওয়া নানা কুসংস্কার যে যুক্তিবোধের অভাব থেকেই জন্ম নেয়, নাটকের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছিল।সময়ের ব্যবধান প্রায় দুই দশক হলেও নাটকের সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা যে এতটুকু কমেনি, নতুন প্রযোজনায় তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। বরং বর্তমান সময়ের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাটকের পরিসর এবং ঘটনা প্রবাহকে আরও কিছুটা বিস্তৃত করা হয়েছে।

এবারের প্রযোজনার নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়ে পুরনো নাটকের মূল বক্তব্য অক্ষুণ্ণ রেখেই নাটকের উপস্থাপনায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন নির্দেশক হেমন্ত ব্যানার্জি। বিশেষ করে আগামী দিনের নাট্যচর্চাকে সামনে রেখে নাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নতুন প্রজন্মের কচিকাঁচাদের। ফলে পুরনো ও নতুন—দুই প্রজন্মের শিল্পীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে এক অভিনব মেলবন্ধন।

এই মঞ্চায়নের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুই দশক আগের সেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতাদের ফিরে আসা। তাঁদের অভিনয় যেন শুধু একটি নাটকের পুনর্মঞ্চায়ন নয়, বরং সিউড়ির নাট্যচর্চার একটি সময়ের ইতিহাসকেও মঞ্চে ফিরিয়ে আনা। তাঁদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উপস্থিতি সেই ইতিহাসকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছে।

রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে ‘প্রেত শান্তি’র নতুন উপস্থাপনা তাই নিছক পুরনো নাটকের পুনর্মঞ্চায়ন হয়ে থাকেনি। পুরনো দিনের স্মৃতি, অভিজ্ঞ শিল্পীদের অভিনয়, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী সামাজিক বার্তা—সব মিলিয়ে নাটকটি হয়ে উঠেছে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন।

কুড়ি বছর আগের স্মৃতিকে রোমন্থন করে বর্তমান প্রজন্মের সামনে নাটকের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের নাট্যচর্চার ক্ষেত্রেও যেন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল গণকণ্ঠ। সিউড়ির নাট্যশহরের মঞ্চে ‘প্রেত শান্তি’র এই প্রত্যাবর্তন সেই কারণেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe