প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

রাজ্যে আইনের নয়, শাসকের আইন চলছে—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

সিউড়িতে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে এল পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন অরূপ রায়, মদন মিত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং রানা সিংহ।

বুধবার সন্ধ্যায় সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অনুব্রত মণ্ডলকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তিনজনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেলেও কোনও অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় রাতেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পর্যাপ্ত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ থাকার দাবি সত্ত্বেও পুলিশ কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করল না?

বোলপুরে এসে সেই প্রশ্নই তোলেন তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে ‘শাসকের আইন’ চলছে। সিউড়ির ঘটনা তারই প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এত কিছু প্রকাশ্যে আসার পরেও পুলিশ কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোটা বিষয়টি রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।এদিন অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর স্বভাব ও রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। অনুব্রতকে ‘বাঘ’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেভাবে তিনজন ব্যক্তি কেষ্টদাকে হেনস্তা করছিলেন, সেই পরিস্থিতিতেও তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ‘টেম্পারমেন্ট’ ধরে রেখেছেন। মদন মিত্রের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতেও অনুব্রত মণ্ডলের যে দৃঢ়তা দেখা গিয়েছে, তার কারণেই তিনি তাঁকে ‘বাঘ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।

মদন মিত্র আরও জানান, মহালয়ার আগের দিন তাঁরা সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, জয় জগন্নাথের পুজোর আগে ‘জয় জনগণের’ পুজো করার বার্তা নিয়েই তাঁরা সিউড়িতে উপস্থিত হবেন।

তবে এই ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন বীরভূম জেলা বিজেপির সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও অনুব্রত মণ্ডল বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হল না কেন? অন্যদিকে, অনুব্রত মণ্ডল-বিরোধী হিসেবে পরিচিত হাসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ বুধবারই এই ঘটনাকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তা পাওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সাংবাদিকরা এদিন এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজল শেখের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত; এটি দলের বক্তব্য নয়।

সিউড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোলপুরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের নানা আলোচনা, অন্যদিকে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অনুব্রত মণ্ডলকে হেনস্তার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe