মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতার ও পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার বীরভূমেও বিক্ষোভ ও মিছিল করল জেলা কংগ্রেস কমিটি। বীরভূম জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর নেতৃত্বে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়ে জেলা শাসকের দফতরের সামনে পৌঁছয়। সেখানে বিক্ষোভ দেখানোর পর জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
কংগ্রেসের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং ভোটাধিকারকে খর্ব করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তাঁর গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR-কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের পর ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা কংগ্রেস কমিটিগুলিকে জেলা সদরগুলিতে মিছিল ও বিক্ষোভের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছিল কংগ্রেস।
বীরভূম জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হওয়ার পরিবর্তে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দেশজুড়ে এই বিষয়গুলি নিয়ে আন্দোলন করছে। তারই অংশ হিসেবে বীরভূম জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা কংগ্রেস নেতা মিল্টন রশিদ অভিযোগ করেন, SIR-এর নামে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও বিভিন্ন বিষয়ে কমিশনারদের আপত্তির বিষয়ও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। বীরভূমের কর্মসূচিতে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে জাতীয় স্তরের দাবিই নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও ইস্যুও স্মারকলিপির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, প্রশাসনিক বিষয় এবং জেলার উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবিগুলিও জেলাশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই দাবিতে কংগ্রেসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলকাতাতেও ২৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের মিছিল নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে এগোনোর সময় পুলিশ তা মাঝপথে আটকে দেয় এবং বিক্ষোভকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি তোলে।
বীরভূমের এদিনের কর্মসূচিতে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য রথিন সেন, বিবেকানন্দ সাউ জেলা কংগ্রেসের নিত্যহরি চ্যাটার্জি, সন্তোষ ঘোষ জাবেদ খান প্রমূখ এদিনের কর্মসূচিতে জেলা কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। মিছিল শেষে জেলা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর স্মারকলিপি জমা দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।




