যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মদিন। একই সঙ্গে এই দিনেই স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রেরণা সিউড়ি বীরভূম’-এর দশম বর্ষে পদার্পণের শুভ সূচনা হলো।
রাষ্ট্র গীত বন্দেমাতরম ও জাতীয় সংগীত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব সুবিনয় দাস ও পান্না বেগম ।এরপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেরণার দশম বর্ষের শুভ সূচনা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সরোজ কর্মকার, সমাজসেবী শ্যামসুন্দর গড়াই, সুনয়ন ভান্ডারী-উজ্জল হক , ইয়াসিন আক্তার, বিমল সোম ,দেবাশীষ ধীবর সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্পাদক মৃণালজিৎ গোস্বামী বলেন, “নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ এবং সামাজিক কাজের লক্ষ্যে প্রেরণা কাজ করে চলেছে। আগামী দিনেও সকলকে সঙ্গে নিয়ে সংস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” পাশাপাশি দশম বর্ষে নাট্য উৎসব সহ নানা উদ্যোগ বছর ভোর করা হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় এদিন সিউড়ি শহরের সাংস্কৃতিক ও নাট্যজগতের বহু মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।প্রেরণার দশম বর্ষে l সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।প্রেরণার উদ্যোগে বীরভূম সাহিত্য পরিষদের শতবার্ষিকী সভাগৃহে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিশেষ সেমিনার।
সেমিনারের বিষয় ছিল ‘নাটক ও বিদ্যাসাগর’। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুশান্ত রাহা, সন্দীপন রায়-সহ বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রেরণার প্রযোজনায় মৃণালজিৎ গোস্বামীর রচনা ও নির্দেশনায় নাটক ‘নতুন আলো’-এর মঞ্চায়ন।
এদিন অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিবেশন করেন মহুয়া গাঙ্গুলী অরূপ সাহা, অসীমা মুখোপাধ্যায় এছাড়াও সমবেতভাবে প্রেরণা ,আশাবরি ,অনুরণন ও মা আনন্দময়ী কালচারাল সেন্টারের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বরুণ দাস l
বিদ্যাসাগরের জীবন, শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও নাট্যচর্চার নানা দিক নিয়ে আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এদিনের অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।




