ভারতীয় মুদ্রায় স্বাধীনতার ইতিহাসকে তুলে ধরে সচেতনতার বার্তা দিতে বর্ধমানের শুরু হতে চলেছে কয়েন এক্সিবিশন। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুদ্রা সংগ্রহের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে ‘ডক্টর অব কয়েনস অ্যান্ড মানি’ –এর উদ্যোগে তিন দিনের ‘বর্ধমান কয়েন এক্সিবিশন ২০২৬’ শুরু হচ্ছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বর্ধমানের সঙ্গম হলে, এই প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।
এই প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০ জন মুদ্রা সংগ্রাহক ও প্রদর্শক অংশগ্রহণ করবেন। প্রাচীন, মধ্যযুগীয়, ব্রিটিশ ভারতের পাশাপাশি স্বাধীন ভারতের বিভিন্ন সময়ের মুদ্রা, নোট, ডাকটিকিট, মেডেল, টোকেন, কাগজপত্র এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক সংগ্রহ প্রদর্শিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরামর্শদাতা রবি সেবক সাংবাদিকদের বলেন তিন দিনের এই প্রদর্শনী বর্ধমানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে । উদ্যোক্তাদের পক্ষে ভিনীত লুন্ডিয়া বলেন বর্ধমানে দ্বিতীয়বার নুমিসম্যাটিক বা মুদ্রা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের মধ্যে মুদ্রা সংগ্রহ ও ইতিহাস সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। বীরভূমে মুদ্রা সংগ্রহকারী তথা সাংবাদিক মৃণালজিৎ গোস্বামী বলেন মুদ্রা ও প্রচলিত নোটের মাধ্যমে একটি দেশের ইতিহাস, অর্থনীতি, শিল্প, সংস্কৃতি, শাসক এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির নানা তথ্য জানা সম্ভব। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে এই প্রদর্শনী ইতিহাসকে অন্যভাবে জানার সুযোগ করে দেবে। আগামী নভেম্বর মাসে ১৩ থেকে ১৫ নভেম্বর বীরভূমের সিউড়িতে “প্রেরণা মুদ্রা উৎসব” অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।
‘ডক্টর অব কয়েনস অ্যান্ড মানি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , বর্ধমানে প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ সংগ্রহের ডাকটিকিট ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী। পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট প্রকাশিত দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার ঐতিহাসিক প্রথম পৃষ্ঠা। থাকছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ বাহিনীকে কেন্দ্র করে বিশাল সংগ্রহ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট সংগ্রাহকদের সংগৃহীত আরও বহু দুর্লভ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শিত হবে।
প্রদর্শনীতে সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে থাকা পুরনো কয়েন ও নোট নিয়ে এসে সেগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংগ্রহযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য নুমিসম্যাটিক মূল্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। অভিজ্ঞ সংগ্রাহক ও ডিলারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি সংগ্রহযোগ্য কয়েন ও নোট কেনাবেচা বা বিনিময়ের সুযোগও থাকবে।আয়োজকদের তরফে বর্ধমানের সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, মুদ্রা সংগ্রাহক, ইতিহাসপ্রেমী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।





