সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। ২০২৬ সালের শারদোৎসবকে সামনে রেখে বীরভূম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক। সোমবার জেলা প্রশাসন ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে জেলাশাসক ধবল জৈন অতিরিক্ত জেলাশাসক বুলবুল বাগচি সহ পুজো কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, যান নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বিসর্জন-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।এবারের দুর্গাপুজো ঘিরে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দুর্গোৎসব। ফলে পুজোকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন ভাবনা ও নীতির দিকেও নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।
নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোকে বাংলার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রেখে উদযাপনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে উৎসব পরিচালনা করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে প্রকাশিত নীতিতে বড় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর না করার আবেদন এবং আর্থিকভাবে দুর্বল ছোট পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা সহায়তার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুজোর পারমিশনের ক্ষেত্রে নিয়ম নীতি সহজ ও সরল করা হবে এবং বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা হবে পূজা কর্তৃপক্ষকে।
এবার পুজোয় ডিজে ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা, অষ্টমীর দিন মদ বিক্রি বন্ধ রাখা, জাতীয় সড়ক বা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করে পুজোর আয়োজন না করা এবং বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেয়েছে।প্রশাসনিক বৈঠকে মূলত পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলার বড় পুজোগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিষেবা সচল রাখা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়।এদিকে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর মূল পর্ব শুরু হবে মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে। প্রচলিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ১০ অক্টোবর মহালয়া, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী।
দুর্গাপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। মণ্ডপ নির্মাণ থেকে প্রতিমা তৈরি—সব ক্ষেত্রেই ব্যস্ততা বাড়ছে। প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠকের পর পুজো কমিটিগুলির মধ্যেও প্রস্তুতি আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।নতুন সরকারের প্রথম দুর্গোৎসবে একদিকে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রাখা, অন্যদিকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার উপর বিশেষ গুরুত্ব—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এবারের শারদোৎসবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে প্রশাসন।




