বীরভূমে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহের মধ্যেই তৃণমূলের সদস্যদের সমর্থনে জেলার দুই পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিল বিজেপি। বুধবার সিউড়ি ১ নম্বর এবং সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে দিনভর রাজনৈতিক চাপানউতোর ছিল। শেষ পর্যন্ত সিউড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির প্রার্থী রিতা মুন্সী এবং সাঁইথিয়ায় বিজেপির তপু মাঝি বাগদি সভাপতি নির্বাচিত হন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীরভূমেও একের পর এক স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জেলার পাঁচটি পুরসভার মধ্যে তিনটির চেয়ারম্যান এবং অধিকাংশ কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় সেখানে বর্তমানে এক্সিকিউটিভ অফিসাররা প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে, বীরভূম জেলা পরিষদেও তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষরা কিছুদিন আগে সভাধিপতি ফাইজুল হক ওরফে কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। তবে অনাস্থা ভোটের আগেই তিনি পদত্যাগ করায় বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব জেলাশাসক সামলাচ্ছেন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রধান, উপপ্রধান ও সদস্যদের পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। বুধবার তারই ধারাবাহিকতায় সিউড়ি ১ নম্বর ও সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতিতে নতুন সভাপতি নির্বাচন হয়।
সিউড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট সদস্য ১৬ জন। সভাপতি-সহ তৃণমূলের দু’জন সদস্য আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। এদিন বিজেপির দুই সদস্যের পাশাপাশি তৃণমূলের ১১ জন সদস্য ভোটাভুটিতে অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত বিজেপির রিতা মুন্সী সভাপতি নির্বাচিত হন। অর্থাৎ তৃণমূলের সদস্যদের উপস্থিতি ও সমর্থনেই বিজেপির প্রার্থী সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে, সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করায় বুধবার নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হয়। ৩৩ সদস্যের পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের ২৭ জন এবং বিজেপির তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি পদে অন্য কোনও দলের প্রার্থী না থাকায় বিজেপির তপু মাঝি বাগদিকে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
দুই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সদস্যদের সমর্থনে বিজেপির প্রার্থীদের সভাপতি হওয়ার ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে বিজেপি।
বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অনাস্থা এনেছিল। সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সকলেই বিজেপির প্রার্থী তপু মাঝি বাগদিকে সমর্থন করেছেন। পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যে রং দেখে কাজ হয় না। নির্বাচিত প্রার্থীরাই নিজেদের মতো করে নির্বাচন করেছেন। সিউড়িতেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির প্রার্থীকে তৃণমূলের সদস্যরাই সভাপতি করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনের সময় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শ্যামসুন্দর গড়াই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন। সেই পঞ্চায়েত সমিতিই আজ বিজেপির দখলে আসায় দিনটিকে তিনি “গর্বের দিন” বলে উল্লেখ করেন।
দুই পঞ্চায়েত সমিতিতেই নতুন সভাপতি মহিলা হওয়ায় দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নবনির্বাচিত সভাপতিরা জানান, দলমত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার মানুষের স্বার্থে কাজ করাই তাঁদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য।




