ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় আগের সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেই দুর্নীতির কারণে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত কয়েকটি প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল, ওই সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার যথাসময়ে হবে বলে জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
রবিবার সিউড়ির ডিআরডিসি হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ‘পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর’-এর কাজের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষের পরিষেবার কথা মাথায় রেখে পঞ্চায়েতের আইনেও একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার এগোচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে কোনও অভিযোগ এলে তার তদন্তের ব্যবস্থাও রয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান বা রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে জেলে গিয়েছেন। আরও কয়েকজন রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।

আবাস প্রকল্পের সার্ভে প্রায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বলেও জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তবে বৃষ্টির কারণে জি-রামজি প্রকল্পের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে কর্মদিবসের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়ালে লেখা দেশবিরোধী স্লোগান মুছে ফেলার প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যে বাংলায় “বন্দে মাতরম” রচনা হয়েছে, যেখানে “জনগণমন” রচনা হয়েছে, এমন কবির জন্ম হয়েছে, যার লেখা তিনটি জাতীয় সংগীত তিনটি দেশে গাওয়া হয়, সেই বাংলা থেকে কেউ ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেবে, ‘ভারত তেরে টুকরে হঙ্গে, ইনশাল্লাহ’ বলবে, এখানে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করবে—এ অনুমতি আমরা দেব না।” তাঁর দাবি, কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের আওয়াজ বন্ধ হয়েছে। এদিন আরও আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, শুধু দেওয়াল থেকে নয়, মানুষের মন থেকেও ভারতবিরোধী মনোভাব মুছে ফেলার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
দীর্ঘ আট বছর পর অশোকনগর থেকে তেলের ট্যাঙ্কার শোধনাগারে পৌঁছনোর প্রসঙ্গ উঠতেই ‘রসিকতা’ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “খনিও অপেক্ষা করছিল নতুন সরকারের জন্য।” এরপরই তিনি বলেন, এটি শুভ সংকেত। নতুন সরকার আসার পর সরকারের আয় বাড়ছে, তেল পাওয়া যাচ্ছে, গ্যাস পাওয়া যাবে, আরও অনেক কিছুই হবে। সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সবকিছু ঠিক থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রকৃতিও সঙ্গে আছে।”
মেসি-কাণ্ডে রাজ্য সরকারের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়ামন্ত্রীকে পুরো তালিকা বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যে সমস্ত সাধারণ মানুষ টাকা খরচ করে অনুষ্ঠানে এসেও প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি, তাঁদের জিএসটি বাদ দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন। সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি।ভুয়ো জব কার্ড এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর গ্রাম উন্নয়ন গ্যারান্টি কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়ার কাজও চলছে বলে জানান দিলীপ ঘোষ। তবে কিছুটা দেরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রবিবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কাজের পর্যালোচনা করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন-সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। জেলার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।




