দুর্গাপুজো। তার আগেই বীরভূম জেলার পঞ্চায়েত ও পুরসভা এলাকার সমস্ত রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রামপুরহাটে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে জেলার বিডিও এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বীরভূমের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ, রেল পরিষেবা ও রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন দ্রুততার সঙ্গে করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ডেউচা-পাঁচামি কয়লা খনি প্রকল্প নিয়েও এদিন সরব হন তিনি।
প্রকল্পে জমি ও চাকরির ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদিবাসীদের জমি অনিয়ম করে তৃণমূল নেতাদের পাট্টা দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সূত্রে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে ওই জমির পাট্টা বাতিল করা হয়েছে এবং চাকরিও বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ডেউচা-পাঁচামি নিয়ে সরকারের পরবর্তী অবস্থান সেপ্টেম্বরের শেষে জানানো হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বীরভূমের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে মা তারা, বাউল এবং রবীন্দ্রনাথের কথা স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরভূমের সার্বিক উন্নয়নে সরকার আরও উদ্যোগী হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এদিন বীরভূম জেলা পুলিশের কাজের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বীরভূম জেলা পুলিশ ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে ২২০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে এবং ২৫২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বীরভূম পুলিশ প্রমাণ করেছে তারা চাইলে সব করতে পারে। এর জন্য ইডি-সিবিআইয়ের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাথর শিল্প থেকে জেলার রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে বছরে বীরভূমের পাথর শিল্প থেকে প্রায় ৮২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হত। বর্তমানে মাত্র তিন মাসেই সেই রাজস্ব বেড়ে ২৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি। জয়দেবের কদমখণ্ডি মহাশ্মশানের উন্নয়নের জন্য স্থানীয়ভাবে আবেদন জানানোর বিষয়টিও এদিন উঠে আসে। জেলার সাংবাদিকদের পাশে থাকার বিষয়ে তাঁর ভাবনার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীবার বীরচন্দ্রপুরে আসারও আশা রয়েছে তাঁর।




