প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

প্রস্তুতি চলছে। বীরভূম জেলা পরিষদে পাল্টে যাবেন সভাধিপতি?

“পাল্টানো দরকার চাই বিজেপি সরকার”- ভোটের আগে এমন শ্লোগান উঠেছিল বাংলা জুড়ে । জনগণের রায়ে পাল্টেছে বাংলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার গদিচ্যুত হয়েছে । পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের ক্ষমতা সাধারণের হাতে পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ নতুন সরকার। নতুন ভাবনায় নতুন কাজ করতে গিয়ে জটিলতা কমাতেও পরিবর্তন দরকার। বীরভূমে তৃণমূলের বিধায়কেরা এখন কালীঘাট তৃণমূলের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের আশ্রয়ে। হাঁসনের বিধায়ক তথা বীরভূম জেলা পরিষদের সভাপতি শেখ ফাইজুল হক ওরফে কাজল শেখ ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস অনুব্রত মণ্ডল কে জেলা সভাপতি ঘোষণা করেছে । চিরদিনের তৃণমূলের ঘরোয়া রাজনীতিতে বিবাদমান কাজল শেখ ও অনুব্রত মণ্ডল ঋতব্রত শিবিরে থাকলেও একে অন্যকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেন কিনা তাঁরাই বলতে পারবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাজনীতির কারবারিরা মনে করেন নতুন খেলা শুরু হচ্ছে বীরভূমে। অনুব্রত মণ্ডল তাঁর অনুগামীদের মাঠে নামিয়েছেন। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নির্বাচন এখনো অনেক দূরে কিন্তু সাধারণের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব চাই জেলা পরিষদ তার নিজস্ব ছন্দে চলুক। কিন্তু বিধানসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কাজল শেখ জেলা পরিষদে আসেননি। ডিম থেরাপির ভয় নাকি দুর্নীতি করার ভয় তা আলোচনার বিষয় হতে পারে ।তবে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে ফাইজুল হক ওরফে কাজল শেখ দীর্ঘদিন জেলা পরিষদে না আসায় অনেক কাজ যেমন জমে গেছে তেমনি প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ৫২ আসন বিশিষ্ট বীরভূম জেলা পরিষদে অনুব্রত অনুগামী নব গোপাল বাউরি প্রাথমিক পর্বে ১৯ জনকে নিয়ে

(আঁখি অধিকারী ,বিশ্বনাথ দাস ,মুনমুন লাহা, নারায়ণ চন্দ্র হালদার ,বিকাশ রায়চৌধুরী ,প্রদীপ কুমার ভকত ,নুরজাহান বেগম, শাকিলা বেগম ,সামসাদ বেগম ,আমিনা বেগম, মৌমিতা রায়চৌধুরী বিশ্বাস, সাহাবুল শেখ ,কৃষ্ণা মন্ডল ,মুলুক চাঁদবাগদি ,গায়ত্রী দাস, হরে রাম মাহারা , বন্দনা সাহা ও সুপ্রিয়া দাস )জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন ,নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা কমিশনারেটে লিখিত আকারে অনাস্থা এনেছেন। অনাস্থার বিরুদ্ধে সংখ্যা বাড়ছে চারজন কর্মাধ্যক্ষ রয়েছেন এই তালিকায়। অসমর্থিত সূত্রের খবর বীরভূম জেলা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব এনে কিভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে তার তোড়জোড় শুরু করেছে জেলা পরিষদ সদস্যদের একাংশ। জেলা পরিষদে ১৯ জন সদস্যের স্বাক্ষর করা চিঠি দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছেন নব গোপাল বাউরি। জেলা পরিষদে সেই চিঠি দিলেও সভাধিপতি বাড়িতে বসেই তা রিসিভ করেছেন । জেলা পরিষদের কাজ কর্ম স্বাভাবিক রাখতে বিজেপি জেলা নেতৃত্ব এবং সিউড়ি বিধানসভার বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় উদ্যোগী হয়েছেন। অনাস্থার পক্ষে বুধবার পর্যন্ত প্রায় তিরিশ জন সদস্য তাদের মতামত জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আর তাই বীরভূম জেলা পরিষদে ভোটাভুটি হতে পারে ভেবেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।শুধু তাই নয় সিউড়ি বিধানসভার এলাকা থেকে জেলা পরিষদ সদস্যরাই সভাধিপতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই ‘সনাতনী এজেন্ডা’ কে সামনে রেখে কাজকর্ম শুরু করায় বীরভূম জেলা পরিষদে একজন হিন্দু জেলা পরিষদ সদস্য সভাধিপতি হবেন এ বিষয়ে সকলে নিশ্চিত। অনুমান করা হচ্ছে বিধানসভার ভোটের আগে থেকেই জেলার সদর শহর সিউড়ি কে ভরকেন্দ্র করার প্রয়াস নিয়েছেন সিউড়ির বিজেপির বিধায়ক তথা উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ।সেই দিক দিয়ে দেখলে এবং সিউড়ির আবেগকে সম্মান জানিয়ে সিউড়ি বিধানসভার এলাকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য রাই এগিয়ে রয়েছেন সভাধিপতি এবং কর্মাধ্যক্ষদের দৌড়ে। যদিও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল মনে করছেন সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হতে পেরে বিকাশ রায়চৌধুরী ভোটের প্রচারে না গিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছিলেন আবার তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রাজনগর তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপিকে শক্তি যুগিয়েছে।  সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বীরভূম জেলা পরিষদ কে শক্তিশালী করতে ভূমিকা নেবেন। সে ক্ষেত্রে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিকাশ রায়চৌধুরীকে তিনি মানতে নাও পারেন তবে রাজনৈতিক মহলের একটি সূত্র বলছে বিকাশ রায়চৌধুরী ভোটে না দাঁড়িয়ে এবং ভোটের প্রচারে না গিয়ে প্রকারান্তরে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কেই জিততে সাহায্য করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিকাশ রায়চৌধুরী বারবার বলেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়   যদি তাঁকে ডাকেন তবে তিনি প্রচারে অবশ্যই যাবেন। শেষমেষ উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় তাকে ডাকেননি ফলে তিনিও ভোটের ময়দানে নামেননি আর দীর্ঘদিনের সভাধিপতি ও বিধায়ক ভোটের ময়দানে না নামাই অনেক অনুগামীও এবারের ভোটে সময় দেয়নি আর তার ফল স্বরূপ বিজেপি সিউড়ি আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে। অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে বিকাশ রায় চৌধুরী অনাস্থা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী কাজল শেখ কে হারিয়ে রাজনৈতিক জ্বালা মিটিয়ে সভাধিপতি হতে পারেন ,তবে বিকাশ রায়চৌধুরী যেহেতু তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ,ছিলেন পাঁচ বছরের বিধায়ক ,ছিলেন১০ বছরের সভাধিপতি তাই নিচু তলার বিজেপি কর্মীরা তাকে মেনে না নিলে বিজেপির অসুবিধা হতে পারে।

তাই ভবিষ্যৎ ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি হিন্দু অথচ রাজনৈতিক অভিজ্ঞ এবং সিউড়ি বিধানসভার এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন একজনকে “পাখির চোখ “করছে যাতে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে না পারেন এবং বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে পরিচালনা করতে পারেন। রাজনগর এলাকা থেকে জেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন নবগোপাল বাউরী ।তিনি বাম আমলেও ফরওয়ার্ড ব্লকের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা জেলা পরিষদের তিনবারের কর্মধ্যক্ষ। ফলে একদিকে জেলা পরিষদের কাজকর্ম সম্পর্কে তিনি যেমন ওয়াকিবহাল তেমনি কাজল বিরোধী অনুব্রত ঘনিষ্ঠ এবং বিকাশ রায় চৌধুরীর স্নেহধন্য হিসেবে চিহ্নিত। ফলে সিউড়ি বিধানসভার এলাকার হিন্দু অথচ সকলের প্রিয় পাত্র জেলা পরিষদের সভাধিপতি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কাজল -কেষ্ট চিরকালের দ্বন্দ্বের মাঝে বর্তমান অনাস্থা পরিস্থিতিতে কেষ্টর ভূমিকা কি হবে সেই নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে ।কেউকেউ মনে করছেন কেষ্ট ঘনিষ্ঠ বোলপুরের নারায়ণ চন্দ্র হালদার সম্ভাব্য সভাধিপতি হতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে জেলার বিজেপি বিধায়কেরা তা কতটা মেনে নেবেন সেই বিষয়ে সংশয় আছে! আবার রাজনীতিতে অচ্ছুত বলে কিছু হয় না অনেক বার তার প্রমান মিলেছে। সেক্ষেত্রে অপরাজেয় কাজল শেখ জিততে পারেন কিনা সেটাও এখন দেখার। তবে বীরভূম জেলা পরিষদে কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে বীরভূম জেলা পরিষদের সদস্যরাই উন্নয়নে স্তব্ধ হয়ে থাকা বীরভূম জেলা পরিষদকে আলোর বৃত্তে নিয়ে এসেছেন। আর উন্নয়নের রথের চাকা বীরভূম জেলা পরিষদের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় শেষ মেশ কান্ডারী কে হন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ‘অনাস্থা’ র ভোট পর্যন্ত।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe