বীরভূমের মহম্মদবাজারে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের আত্মীয় মিনার মন্ডলের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে বীরভূম পুলিশ বুধবার রাত্রে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার বিদিতরাজ ভুন্ডেস।
পুলিশের অনুমান এগুলি সিন্ডিকেটের বেআইনি টাকা । বীরভূম পুলিশ জানিয়েছে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কয়েকদিন ধরেই মিনার মন্ডলের বাড়ি এবং তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল পুলিশ ।সম্পূর্ণ তথ্য হাতে আসার পরই পুলিশ তৈরি হয়ে তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। বুধবার ভোরে বীরভূমের মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মীনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় বীরভূম পুলিশের বিশেষ দল ৷ বীরভূমের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) নীলেশ শ্রীকান্ত গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে মহম্মদবাজার-সহ বেশ কয়েকটি থানার পুলিশ ম্যারাথন তল্লাশির পর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনার বাট উদ্ধার হয় । দুপুরে টাকা গোনার জন্য পাঁচটি গণনা মেশিন ও বড় বড় ট্যাঙ্ক নিয়ে অফিসারেরা ভিতরে প্রবেশ করেন ৷এত পরিমাণ টাকা ও সোনা দেখেই তদন্তকারীদের হুঁশ উড়ে যায়।
টাকা গুনতে গুনতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়া জেনারেটরের ব্যবস্থা করে পুলিশ। পুলিশের উচ্চ আধিকারিকেরাও উপস্থিত হন বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে । স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো রেকর্ড করা হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা । মিনার মন্ডল ও টুলু মন্ডল এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বীরভূম পুলিশ।ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েmছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বীরভূমের পুলিশ সুপারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি । পাশাপাশি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।

তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বীরভূমে বেতাজ বাদশা ছিলেন মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল । পাথর মাফিয়া হিসাবেই পরিচিত তিনি ৷ এছাড়া, বিপুল বেআইনি বালির কারবারেও তার নাম রয়েছে । বিরোধী দলে থাকাকালীন একাধিকবার এই টুলু মণ্ডলের কার্যকলাপ নিয়ে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ।আগে পেশায় তিনি বাস চালক ছিলেন ৷ টুলু মণ্ডলের ছত্রছায়ায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন তাঁর আত্মীয়রাও ৷ তাঁদের মধ্যে একজন মহম্মদবাজারে বাসিন্দা এই মীনার মণ্ডল । গত ১৫ বছরের বিপুল সম্পত্তির মালিক এই মীনার ৷ পুলিশ টাকা ও সোনা উদ্ধারের পাশাপাশি কীভাবে এই সম্পদ এল, তার উৎস অনুসন্ধান করছে । মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন, বীরভূমের বালি ও পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে এই টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছে ৷ এই মীনার মণ্ডলও পাথর কারবারি হিসাবে পরিচিত ।মুখ্যমন্ত্রী এই সফল অভিযানের জন্য রাজ্যের ডিজিপি, বীরভূমের পুলিশ সুপার-সহ বীরভূম জেলাপুলিশের সমস্ত আধিকারিক ওকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি ।একই সঙ্গে দুর্নীতিবাজদের কড়া বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে” ।
মাফিয়াদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “জনগণের সম্পদ জনগণেরই, তা লুট করলে আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতার মুখোমুখি হতে হবে ।” দুর্নীতি এবং মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই নজরদারি যে কঠোরভাবে জারি থাকবে, সে কথাও নিজের পোস্টে নিশ্চিত করেছেন তিনি । উল্লেখ্য, বীরভূমের মহম্মদবাজার, নলহাটি, দেউচা-পাচামি এলাকায় বেআইনি প্রায় আড়াইশোটি পাথর খাদান পরিচালনা হত এই টুলু মণ্ডলের হাত ধরে ৷ নকল ডিসিআর চালিয়ে কোটি কোটি টাকার কারবার চলত তাঁর হাত ধরে ৷ তৎকালীন শাসক দলের নেতারা থেকে প্রশাসনের মদতছিল বলেও অভিযোগ ।
প্রসঙ্গত, গরুপাচার ও কয়লাপাচার মামলায় বীরভূমের মহাম্মদবাজার ও সিউড়িতে এই টুলু মণ্ডলের বাড়ি ও অফিসে যৌথভাবে হানা দিয়েছিল সিবিআই ও ইডি । দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছিল দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা ৷ পরে বেশ কয়েকবার কলকাতার নিজাম প্যালেসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই ।এমনকী, দিল্লিতে ডেকেও পাথর ও বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । এছাড়াও, গরুপাচার ও আর্থিক তছরুপের মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর এই টুলু মণ্ডলের গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ৷ সেই সময় মহম্মদবাজার থানায় টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করে ‘এক প্রকার শেল্টার দিতে’ ২০২২ সালের ছয় নভেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ । এক প্রকার একছত্র আধিপত্য চালাত এই টুলু মণ্ডল ।




