সিউড়ি শহরে একদিনে দুই পৃথক মৃত্যুর ঘটনায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একজন বীরভূম জেলা স্কুলের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক শেরশাহ আফগান এবং অন্যজন সিউড়ি শহরের ডাঙালপাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কর্মরত নার্স অনুশ্রী মাল।
জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলা স্কুলের শিক্ষক আফগান স্যার দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন।
সূত্রের খবর, সোমবারও তিনি বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। সন্ধ্যার পর থেকে তাঁকে আর বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি।তিনি অকৃতদার ছিলেন। প্রাথমিক অনুমান, রাতের কোনও এক সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন পরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। তাঁর প্রয়াণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বীরভূম জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন সাহা জানান ইন্দিরাপল্লী পুরাতনলাইন এলাকায় বাড়ি কিনে তিনি সেখানে থাকছিলেন। দুদিন ধরে তিনি স্কুলে আসেননি। বৃহস্পতিবার আশেপাশের লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে স্কুলে খবর দেন। আমরাও পুলিশে খবর দিই। দমকলের লোকজন এসে দরজা ভেঙে মেঝে থেকে তাঁর মৃত দেহ উদ্ধার করে ।
অন্যদিকে, সিউরির একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত অনুশ্রী মাল নামেএক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বুধবার রাতে হাসপাতালে ডিউটি এসেছিল আর বৃহস্পতিবার সকালে কেবিন রুমের দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মৃতের বাবা অনুপ মাল জানান নার্সিংহোম থেকে মেয়ের ফোনে ওটি আছে বলে খবর যায়। মেয়েকে পৌঁছেও দি রাতে মেয়ের সাথে কথা হয়েছে। কিন্তু সকালে আমি মেয়েকে নিতে এসে দেখি দরজা বন্ধ দরজা খোলা সম্ভব হয়নি । পরে দরজা ভাঙ্গার পর দেখলাম স্টেথোস্কোপ লাগিয়ে ঝুলছে। ঘটনা জানাজানি হতেই লোকজন নার্সিংহোমে এসে প্রকৃত তথ্যের দাবি জানান ও দোষীদের গ্রেফতারের
জন্য বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।খবর পেয়ে সিউড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। একদিনে শহরের দুই পরিচিত মানুষের মৃত্যুতে সিউড়ী জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।




