আষাঢ়ের রথযাত্রা মানেই বাংলার আবেগ, ঐতিহ্য ও শৈশবের স্মৃতিকে নতুন করে ফিরে পাওয়া। শুক্রবার বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত হল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। বড় রথের পাশাপাশি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দেখা গেল ছোটদের রথ। কেউ কাঠের ছোট্ট রথ টানছে, কেউ আবার নিজের হাতে সাজানো রথ নিয়ে পথে নেমেছে। কোথাও বাঁশি, খোল-করতাল, কীর্তন, কোথাও আবার মেলা ও নানা দোকানকে ঘিরে মানুষের ঢল নামে।

সিউড়ি রাধা বল্লভ মন্দিরের রথ, রক্ষাকালীতলার রথ, যাত্রিক ক্লাবের রথ, বড় বাগান একের পল্লীর রথ সিউড়ির বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। রথ কে ঘিরে স্টেশন মোড়ে শিবালয় ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে জলযোগের ব্যবস্থা করা হয় মেলা বসে রক্ষাকালী তলায়। 
বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই রথের রশিতে হাত দিতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। অনেকের বিশ্বাস, রথের রশিতে একবার টান দিতে পারলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সংসারে শান্তি ও মঙ্গল আসে। সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুবক থেকে শুরু করে শিশুরাও অংশ নেয় এই উৎসবে।

এদিন জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সিউড়ি সারদাপল্লী ও পাইকপাড়া মহিলা পরিচালিত রথযাত্রায় অনুষ্ঠানে এসে তিনি নিজ হাতে প্রভু জগন্নাথের রথের রশিতে টান দেন। ” ভক্তদের সঙ্গে মিশে মন্ত্রীও প্রার্থনা করেন সকলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও রাজ্যের কল্যাণ কামনায়।

রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার লোকসংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় প্রতিটি বাড়িতে ছোটদের রথ তৈরি, রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো, পুতুল বসানো এবং পাড়ায় পাড়ায় রথ টানার যে আনন্দ ছিল, আজও সেই ঐতিহ্য অনেক পরিবার ধরে রেখেছে। আধুনিকতার ভিড়েও রথযাত্রা বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক চিরন্তন উৎসব হিসেবেই থেকে গেছে।




