সাইকেল চালিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনতে জনতার দরবারে এলেন সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। রথের দিনে সিউড়ি শহর বিজেপি কার্যালয়ে বসে শুনলেন মানুষের অভাব অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কাউকে দিলেন আশ্বাস ,কাউকে দিলেন ভরসা ।
জনতার দরবার চলাকালীন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রস্থ কথাও বললেন। ফের বললেন সিউড়িকে জেলার ভরকেন্দ্র বানাবেন। শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে রাজ্যের পাশাপাশি জেলার প্রতি তাঁর যে দায়বদ্ধতা তা তিনি স্পষ্ট জানিয়ে বলেন সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সপ্তাহে তিনি দুদিন সমস্যার কথা শুনবেন এবং সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। 
মন্ত্রী বলেন আমরা মানুষের অভাব অভিযোগ শুনছি, লিপিবদ্ধ করছি। মানুষের প্রত্যাশা আছে কিন্তু সব প্রত্যাশা শীঘ্রই পূরণ করা সম্ভব হবে না কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে যা করার আমি অবশ্যই চেষ্টা করে যাবো । মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন পূর্বতন সরকার সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনতো না কিন্তু সনাতনী এই সরকার মানুষের অভাব অভিযোগ শুনছেন লিপিবদ্ধ করছেন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে। জনসংযোগ বাড়াতে আগেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী । সাধারণ মানুষ নাম্বার পেয়ে অভাব অভিযোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কথা ব্যক্তিগত সমস্যা তুলে ধরছেন এবং এত পরিমান ‘মেসেজ’ আশাতে কার্যত সময় দিতে পারছেন না স্বয়ং মন্ত্রী । তাও তিনি বলেছেন সব সমস্যার সমাধান সঙ্গে সঙ্গে করা সম্ভব না হলেও আশু প্রয়োজনের ভিত্তিতে সেই অভাব অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
সাংবাদিকদের শিল্প নিয়ে রাজ্যের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী বলেন রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো পুরো ভেঙে পড়েছে পূর্বতন সরকারের অদূরদৃষ্টিতার জন্য। বাম আমলে ইউনিয়নের দাপাদাপি এবং তৃণমূলের আমলে সিন্ডিকেট রাজ পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে নষ্ট করে দিয়েছে । আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তত্ত্বাবধানে রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আসতে চলেছে জানিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন সরকার হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনা ।শিল্প কারখানার ইউনিটের বাইরে দায়িত্ব সরকারের আর ভেতরের দায়িত্ব শিল্পপতির বা উদ্যোগী শিল্প সংস্থার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করে শিল্পের পরিবেশ রাজ্যে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংস্থা আবার এই রাজ্যে শিল্প করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন ।আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা শিল্পে নতুন করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বিনোদ কুমার কন্ট্রোলার অফ অডিটর জেনারেল (সিএজি)কে চিঠি দিয়ে রাজ্যের ৩৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রায় 500 কলেজ সি এ জি অডিটএর তত্ত্বাবধানে আনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী বলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ,বেসরকারি কলেজ, বি এড ,পিটিটিআই পলিটেকনিক, ল প্রভৃতি বেসরকারি কলেজগুলি কিভাবে এনওসি পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিল । আদৌ সেখানে পড়াশোনা ঠিক ঠাক ও নিয়মিত হচ্ছে কিনা তা সব খতিয়ে দেখা হবে বলে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের আমলে কোনরকম পরিকাঠামো ছাড়াই মুড়ি মুড়কির মত বিএড কলেজ, ফার্মাসি কলেজ, ল কলেজ তৈরি হয়েছিল- এই সরকার তা বরদাস্ত করবে না বলে এদিন ফের স্পষ্ট বার্তা দিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে রয়েছে সিউড়ির বি আই টি কলেজ, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দিকে তৈরি হওয়া বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সেই কলেজে এখন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তাই মন্ত্রীর আশ্বাস এই কলেজ বাঁচাতে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বড় কোন বেসরকারি সংস্থাকে বি আই টি র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোন শিক্ষা মাফিয়া এই কলেজ চালাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী।




