বোলপুর নৃত্যনিকেতন ড্যান্স গ্রুপ এন্ড স্কুলের আয়োজনে এবং ভারত সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ৮ থেকে ১০ই জুলাই তেপান্তর নাট্যগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ন্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল “বঙ্গ নাট্য রঙ্গ উৎসব – ২০২৬”। সহযোগিতায় এবং আমরা, ইলোরা, থিয়েটার ওয়ার্কার্স রেপার্টরি ও অক্ষয়গুনা। জাতীয় নাট্যোৎসবের সূচনা হয় বাদ্যযন্ত্রের আবহের মধ্য দিয়ে । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যগুরু প্রবীর গুহ, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন নাট্য অধ্যাপক তারক সেনগুপ্ত, আসাম ‘অভিনব থিয়েটার’ গ্রুপের কর্ণধার দয়াল কৃষ্ণ নাথ, ‘এবং আমরা’ নাট্য দলের নাট্যকার কল্লোল ভট্টাচার্য, ক্ষেত্র অনুসন্ধানী প্রণব ভট্টাচার্য, পিন্ডিরা ‘ইলোরা’ নাট্য দলের কর্ণধার মলয় ঘোষ, প্রেরণা সিউড়ি বীরভূমের নাট্য নির্দেশক মৃণালজিৎ গোস্বামী ও বোলপুর নৃত্যনিকেতন ড্যান্স গ্রুপ এন্ড স্কুলের নাট্যকার অভিষেক দত্ত।
“প্রবীর ধারা বহে অনিবার” নাট্য সম্বর্ধনায় নাট্যগুরু প্রবীর গুহ সম্বর্ধিত করেন ছাত্র তথা নাট্যনির্দেশক এবং সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার প্রাপক কল্লোল ভট্টাচার্য, নাট্য শিল্পী রুমা সেন ও নাট্যকার ও নাট্য নির্দেশক তপন দাসকে। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন নাট্য অধ্যাপক নাট্যসম্মাননা জানান দয়াল কৃষ্ণ নাথ, মলয় ঘোষ ও মৃণালজিৎ গোস্বামী প্রমূখ নাট্যব্যক্তিকে।

প্রথম নাটক শুরু হয় আসাম থেকে আগত দয়াল কৃষ্ণ নাথের অভিনব থিয়েটার গ্রুপের ‘স্বদেশ’ নাটকের মধ্য দিয়ে এবং শেষ নাটক স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদিনী নাট্য অঙ্গনের প্রবীর গুহ নির্দেশিত “হ্যালো ম্যাকবেথ” নাটকের মঞ্চায়ন দিয়ে।
জাতীয় নাট্যোৎসবের দ্বিতীয়দিন বিকালে “নাটক কেন করবে? ও পড়াশোনাতে কি ভাবে উপকার হয়” এই বিষয়ে সেমিনারে প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন নাট্যগুরু প্রবীর গুহ, উড়িষ্যার নাট্যচেতনা দলের নাট্যকার সুবোধ পট্টনায়েক, নাট্য নির্দেশক অলকেশ সামন্ত, নাট্যাভিনেত্রী সুজাতা প্রিয়ংবদা (উড়িষ্যা), স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমন্বয় ব্যানার্জি।

এই সেমিনারে নাট্যোৎসবের যে উদ্দেশ্য “বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য” তা আবারো প্রমাণিত হয়। হলদিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও কলকাতার প্রায় ১০০ জন নাট্য ছাত্র-ছাত্রী প্রকৃতির খোলা প্রান্তরে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় পশ্চিম বর্ধমানের সাতকাহনীয়ায় তেপান্তর নাট্য গ্রামে মঞ্চস্থ হয় আয়োজক সংস্থা বোলপুর নৃত্যনিকেতন ড্যান্স গ্রুপ এন্ড স্কুলের নাট্যকার ও নির্দেশক অভিষেক দত্তের “টুরু লাভ” নাটক, হলদিয়া থেকে দুর্গাচক নাট্য দরিয়া দলের নাট্য অধ্যাপক ড:সৌমিত্র বসু রচিত ও অলকেশ সামন্ত নির্দেশিত “আয়না” নাটক ও কলকাতার অল্টারনেটিভ লিভিং থিয়েটার দলের নাট্যকার প্রবীর গুহ নির্দেশিত “হাড় হাভাতের রোজনামচা”নাটক মঞ্চস্থ হয়

‘বঙ্গ নাট্য রঙ্গ ‘ উৎসবের শেষ দিনে বোলপুর নৃত্যনিকেতন ড্যান্স গ্রুপ এন্ড স্কুলের ড: ওম প্রকাশ ভারতীর রচিত ও নির্দেশিত “হাতি বন্ধু” নাটক, উড়িষ্যার নাট্য চেতনা দলের নাট্যকার সুবোধ পাট্টনায়েক রচিত ও সুজাতা প্রিয়ংবদা নির্দেশিত “রেবতি, এবতি, সেবতি” নাটক ও পশ্চিম বর্ধমানের এবং আমরা নাট্য দলের কল্লোল ভট্টাচার্যের রচিত ও নির্দেশিত “একটি ভালোবাসার গল্প” নাটক মঞ্চস্থ হয়ে শেষ হয় এই জাতীয় নাট্যোৎসব।




