যার হুংকারে বীরভূমে তথস্থ থাকতো পুলিশ প্রশাসন, যাকে সকলে বীরভূমের বাঘ বলতো সেই বাঘ এখন বিড়াল বনেছে। গরু কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে তিহার জেল থেকে আসার পর কার্যত ‘ফেস ভ্যালু’ কমে গিয়েছিল অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর। কেষ্টর অবর্তমানে তাঁর চির প্রতিদ্বন্দ্বী কাজল শেখ কথায় কথায় ‘মা মমতা’কে তোষামোদ করে, ভাইপো অভিষেকের সাপোর্ট নিয়ে বীরভূম জেলায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই সব যেন উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

মমতার আশ্রয় ছেড়ে ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লিখিয়ে কিছুটা “বাঁচতে” চেষ্টা করছেন বীরভূমের জিতে আসা তৃণমূল বিধায়করা, বীরভূম ও বোলপুরের সংসদ সদস্য রাও এনডিএকে সমর্থন করেছেন ।ব্যতিক্রম অনুব্রত মণ্ডল। তিনি এই সময় ঘরে চুপ করে বসে সব নজর আক্ষেপ ঝরে পড়েছে গলায় । তাঁর হাতে গড়া বীরভূমের পঞ্চায়েত থেকে পৌরসভা একে একে হাতছাড়া হচ্ছে দেখছেন টিভির পর্দায়। বোলপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষকে বোলপুর পৌরসভায় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে আবার বিপাকে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন চোরদের আর বসতে দেওয়া যাবে না। পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করতে দেরি হচ্ছে কেন সেটাই আমাদের জানতে হবে । তবে বোলপুরের নিচু পট্টিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিল বিজেপির যুব নেতৃত্ব ।তাদের দাবি ২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার পরিকল্পনা এই অফিস থেকেই করা হয়েছিল।
বীরভূমে যখন একের পর এক তৃণমূল নেতারা ডিম থেরাপির শিকার হচ্ছেন তখন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এবং সরকার এসব সমর্থন করেন না জানিয়ে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তাতে ফল কিছুটা কমলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। বোলপুরের ডিম থেরাপির শিকার হলেন দুবরাজপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বোলপুরের তৃণমূল নেতা নরেশ চন্দ্র বাউড়ি অবশেষে বোলপুর থানার পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।




