হাসি দাস ,যশোদা দাস ,বন্দনা ধীবর ,আশারাণী বীরবংশী ,পদ্মাবতী দাসেদের স্পিনিং মেশিনে রোভিং এর কাজ করতে করতে কাঁধে ব্যথা! দৈনিক মজুরিতে কাজ । আর সান্ত্বনা বলতে আসা-যাওয়ার ভাড়া, তবুও তাঁদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। কারণ তাঁদের হাতে তৈরি রাজ্যের বৃহৎ জাতীয় পতাকা উড়বে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনে । ডিভিসির জাতীয় পোর্টালে নাম জ্বলজ্বল করছে মসলিন তীর্থ বীরভূমের নাম।

সারি দাস কিংবা মিতালী দাস ভাগ্যবতী দাস কিংবা রিতা দাস সারিকা দাস অথবা জোসনা দাস প্রত্যেকেই খুশি কারণ তাঁদের ভাগ্যে ডিভিসির আরও তিনটি জাতীয় পতাকার অর্ডার এসেছে। প্রত্যেকেই চরম ব্যস্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হবে কাজ। পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ এবং মসলিন তীর্থ বীরভূমে পূর্ব ভারতের প্রথম ডিভিসির অর্ডার এসেছে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও কুড়ি ফুট প্রস্থের জাতীয় পতাকার। 

প্রায় দেড় মাস ধরে ১২ জন মহিলা কাটুনি ও ১০ জন তাঁতি একনাগাড়ে কাজ করে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকা যা তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বীরভূম জেলা আধিকারিক গোপালকৃষ্ণ বোস বলেন পশ্চিমবঙ্গে চারটি জেলায় মসলিন তীর্থ রয়েছে কিন্তু বরাত পেয়েছে শুধুমাত্র বীরভূম এবং নির্ধারিত সময়েই প্রথম জাতীয় পতাকাটি তাঁরা তুলে দিতে পেরেছেন ডিভিসি কর্তৃপক্ষের হাতে।
মঙ্গলবার বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন সিউড়ি আব্দারপুরে মসলিন তীর্থ পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের অফিসে এসে জেলা আধিকারিক গোপালকৃষ্ণ বোসকে সঙ্গে নিয়ে দেখলেন শিল্পীদের হাতে তৈরি জাতীয় পতাকা আর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনও করলেন তিনি যা মঙ্গলবার বিকেলে পৌঁছে গেল ডিভিসি কর্তৃপক্ষের হাতে।
জেলাশাসক বলেন শিল্পীদের হাতের তৈরি সেলাই বিহীন জাতীয় পতাকা ডিভিসির হাতে তুলে দেওয়া হবে। তা ছাড়াও বীরভূমে মসলিনের তৈরি জাতীয় পতাকা ১৫ই আগস্ট ও উত্তরীয় সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং সরকারি দপ্তরে যাতে পৌঁছানো যায় তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। বীরভূমের শিল্পীদের তৈরি খাদির জিনিস জেলার প্রত্যেক প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারলে এবং জেলার মানুষ তা কিনলে তাঁত শিল্পীদের মুখের হাসি বজায় থাকবে সফল হবে সরকারি উদ্যোগও।




