ঐতিহাসিক হুল দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হল সাঁওতাল বিদ্রোহের মহানায়ক সিধু-কানু এবং আদিবাসী জননেতা ভগবান বিরসা মুন্ডাকে। নানুর বিধানসভার অন্তর্গত বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের পাঁচশোয়া রবীন্দ্র বিদ্যাপীঠ ক্রীড়াঙ্গনে এদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলা শাসক ধবল জৈন, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, সমাজসেবী শ্যামাপদ মন্ডল সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং আদিবাসী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। হুল বিদ্রোহের ইতিহাস ও শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।উপস্থিত অতিথিরা আদিবাসী সমাজের সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা এবং অধিকার রক্ষার ইতিহাস তুলে ধরেন। নতুন প্রজন্মের কাছে হুল বিদ্রোহের তাৎপর্য পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

মোহাম্মদ বাজার ব্লক এর কেদারপুর ভবানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় হুল দিবস পালন করা হয়। শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন সাঁইথিয়া বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা, এদিন আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।
এদিন জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে সিধু-কানু এবং ভগবান বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। অন্যদিকে, কোটাসুর, মহম্মদবাজার-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়ও হুল দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানাবিধ প্রদর্শনী সহ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে সিধু-কানু ও ভগবান বিরসা মুন্ডার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বীরভূমের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়।
শাল বাদরা সিধু কানহু ক্লাবের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও সদ্যার সঙ্গে পালিত হল হুল দিবস। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথেই শোভাযাত্রায় পা মেলালেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা বাজালেন মাদল। সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল নায়ক সিধু কানহুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আর ভগবান বিরসা মুন্ডাকে প্রণাম জানিয়ে বিধায়ক বলেন তাঁদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের আগামী দিনের পথ চলায় অনুপ্রেরণা ।
হরিণ সিঙ্গা বিরসা মুন্ডা ক্লাবের উদ্যোগেও মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি উদযাপিত হয়। উপস্থিত ছিলেন সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা ও রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সুনীল সরেন।
১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সিধু ও কানুর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক সাঁওতাল হুল ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। সেই সংগ্রামের উত্তরাধিকারকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ৩০ জুন হুল দিবস পালিত হয়।




