প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

রাজ্য রাজনীতির নতুন সমীকরণ? “নব তৃণমূলে” বীরভূমের পাঁচ তৃণমূল বিধায়ক!! অনুব্রত কি করবেন  ?

‘নব তৃণমূলে’ বীরভূমের জয়ী ৫ বিধায়ক । বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর এক মাসও পূর্ণ হয়নি, তার আগেই তৃণমূলে ভাঙ্গন স্পষ্ট ,ছত্রখান দলীয় নীতি। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের বিরোধী দলনেতা কে হবে এই প্রশ্নে স্পষ্ট হয়েছে ভাঙ্গন ।

দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন দলনেতা হোন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম কিন্তু অধ্যক্ষকে তা জানাতে গিয়েই বিপত্তি বাধে। অভিযোগ অনেক বিধায়ক সই করেননি কিন্তু তা জমা দেওয়া হয়েছে ,সরাসরি অভিযোগ ওঠে সই জালিয়াতির। তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা কে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়।

ছবি সৌজন্যে নিউজ 18 বাংলা

তারপরেই খেলা শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে। অভিষেকের উপর আক্রমণের ঘটনা ও রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতা কর্মীর উপর আক্রমণের প্রতিবাদে ওয়াই চ্যানেলে মমতা যখন ব্যস্ত তখন দল থেকে বহিষ্কার হওয়া বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত যোগাযোগ করেছেন সকলের সাথে। বুঝিয়েছেন অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের যে পরিষদীয় দল সেই পরিষদীয় দলে কোন নেতা নেই “পরিষদীয় দল একটা টিম” কারণ এই মনোভাবের বিরুদ্ধেই তাঁরা লড়াই করেছেন সবাই মিলে ।এখানে কেউ নেতা নন ,কেউ ভৃত্য নন, এটা গোটা একটা টিম। তিনি বোঝাতে সফল হয়েছেন। জয়ী তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ,উপদলনেতা হিসেবে সন্দীপন সাহা ,জাবেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহা আর মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম রয়েছে ।সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করাও হয়েছে এবং স্পিকার সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন। তৃণমূলের ইতিহাসে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বিধায়করা সিদ্ধান্ত নিলেন । বিদ্রোহের চাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সব কমিটি ভেঙে দেন। তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধানসভায় তৃণমূলের নতুন ব্লক সেই দলে মমতার অত্যন্ত কাছের বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং ফায়েজুল হক ওরফে কাজল হাঁসনের বিধান মাঝি ,নলহাটির রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং এবং মুরারই এর মোশারফ হোসেন রয়েছেন বলে সূত্রের খবর। পাঁচজন বিধায়কই যদি নব তৃণমূলে যোগদান করেন তবে বীরভূমে অনুব্রতর ভূমিকা কি হবে সেই দিকে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিন ধরনের নেতাদের দেখা যাচ্ছে। নাম্বার এক : যারা দুর্নীতির দায়ী জেলে যাচ্ছেন। নাম্বার দুই: যারা বিদ্রোহী হয়ে গেছে দল ছেড়ে দিচ্ছেন। আর নাম্বার তিন : দলে থেকেও না থাকার মত, একা হয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ দেখতে পাচ্ছেন । তাঁরা বলছেন ৩৪ বছরের বাম জমানাকে হটাতে কংগ্রেস নেতৃত্বর সঙ্গে বিতর্ক করে কংগ্রেস নেত্রী মমতা  নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম  থেকে  একা বেরিয়ে জান। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কংগ্রেস তাঁকে বহিষ্কার করে ।১৯৯৮ সালের  ১ জানুয়ারী ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দিয়ে দল গড়েছিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  অভিযোগ ছিল তৎকালীন কংগ্রেসের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। ওদের সিপিএমের “বি টিম” বলে মমতা বেরিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দল গড়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলনেত্রীর আসনে বসেন এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন। দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর বাংলার মানুষ বাংলার আসনে বিজেপিকে বসিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ২০২৬ সালে  ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এবার কাঠগড়ায় তিনি নিজেই । ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে ঘিরে কার্যত মমতার হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙ্গে খান খান। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার প্রশ্নে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কে বহিষ্কার করেন ।আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জাল সই কান্ডে এবং পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কার্যত গড়ে তুললেন নতুন দল ‘নব্য তৃণমূল’ যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সেই দলের সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তবে রাজনীতির অলিন্দে থাকা চাণক্যরা বলছেন বাম কে হটাতে বিজেপি ও আরএসএস যেমন তৃণমূলকে সাহায্য করেছে তেমনি আবার বামকে আটকাতে ‘নব্য তৃণমূল’কে প্রকারান্তরে সাহায্য করছে সেই বিজেপি ও আরএসএস। রাজারনীতি “রাজনীতি” চলতে থাকবে । রাজনীতিতে কিছুই অচ্ছুত নয় ,বারবার বাংলার রাজনীতি তাই দেখেছে। এবারও তেমন  কিছু  আরো ঘটবে !! রাজ্য রাজনীতি উথাল পাথাল হবে । তবে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন যাতে থেমে না যায় তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যবাসী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe