নাটকের শহর সিউড়িতে অনুষ্ঠিত হলো ‘দিশারী সপ্তম নাট্য উৎসব’। দিশারী সাংস্কৃতিক চক্র, লাভপুরের উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অ্যাকাডেমির আর্থিক সহায়তায় সিউড়ি রবীন্দ্র সদনে দুই দিনব্যাপী এই নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পদ্মশ্রী প্রাপক লোকশিল্পী রতন কাহার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা বাবুন চক্রবর্তী, উজ্জ্বল হক, মলয় ঘোষ, নির্মল হাজরা-সহ বিশিষ্ট নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
রবিবার উৎসবের প্রথম দিনে মঞ্চস্থ হয় দুটি নাটক। বীরভূমের প্রথম মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী দুকড়িবালা দেবীর জীবন ও সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে সিউড়ি ইয়ং নাট্য সংস্থার প্রযোজনা ‘বীরভূমের বীরাঙ্গনা’ দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দিশারী সাংস্কৃতিক চক্রের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় ‘চাপাডাঙ্গার বউ’।

সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে রবীন্দ্র সদন মঞ্চে দিশারী সাংস্কৃতিক চক্রের আরও দুটি নাটক—‘মতিলাল’ এবং ‘ডাক হরকরা’—মঞ্চস্থ হয়। নাটকের পাশাপাশি উৎসবের মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন সৈয়দ আবশার হোসেন ও অর্চিস্মান গুপ্ত। তাঁদের গান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের বিশেষভাবে আনন্দ দেয়।
দুই দিনের নাট্য উৎসব ঘিরে সিউড়ির নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে ছিল যথেষ্ট উৎসাহ। উৎসবের শেষে দিশারী সাংস্কৃতিক চক্রের সম্পাদক পার্থ সিংহ জানান, নাটকের শহর সিউড়িতে রাঢ়ের কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত তাদের নাটকগুলি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তাঁদের উৎসাহিত করেছে এবং এই সাফল্যে তাঁরা খুশি।

উৎসবের দুই দিনে সিউড়ির বিভিন্ন নাট্যদলের পক্ষ থেকেও নাট্যচর্চা ও উৎসবের সাফল্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। নাট্যনির্দেশক রজ্ সাহা, বাবুন চক্রবর্তী, উজ্জ্বল হক, কল্যাণ ভট্টাচার্য, নির্মল হাজরা, নারায়ণ প্রসাদ ভট্টাচার্য, লক্ষণ বিষ্ণু, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং তারাশঙ্কর গবেষক দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থেকে উৎসবের সাফল্য কামনা করেন।





