রথযাত্রার দিন বীরভূমের তারাপীঠে পালিত হয় এক অনন্য ধর্মীয় ঐতিহ্য। তারাপীঠের রথ জেলার ঐতিহ্যবাহী রথ। তারাপীঠে তারা মা-ই জগন্নাথের প্রতিভূ। একাধারে তিনিই কালী, অন্যদিকে তিনিই কৃষ্ণ। সোজা রথ থেকে উল্টো রথ, দুই পর্যায়ের রথেই মা তারা অধিষ্ঠিতা হন।
সাধারণত দেশ জুড়ে রথযাত্রায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পূজা করা হলেও, তারাপীঠে মা তারাকেই জগন্নাথের প্রতিভূ বা রূপ হিসেবে রথে বসিয়ে পূজা করা হয়। ওই দিন মা তারা রাজবেশে সেজে ভক্তদের দর্শনের জন্য রথে আরোহণ করেন। সনাতন বিশ্বাস অনুসারে, মা তারা হলেন একাধারে কালী ও কৃষ্ণ। রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে তারাপীঠের প্রধান মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মা তারার চরণ এবং বিগ্রহ বাইরে নিয়ে এসে নিয়মনিষ্ঠা মেনে রথে বসানো হয়।এরপর ভক্তদের উপস্থিতিতে রথ টেনে মা তারার নগর পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার ভক্ত এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে তারাপীঠে সমবেত হন।

তারাপীঠের ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, তারাপীঠের রথের প্রথম সূচনা করেন সাধক দ্বিতীয় আনন্দনাথ। সেই সময় কাঠের তৈরি একটি রথে তারা মা-কে বসিয়ে গোটা চণ্ডীপুর গ্রাম (বর্তমানে তারাপীঠ নামে পরিচিত) প্রদক্ষিণ করানো হত। সেই সময় রথের রশিতে টান দিতে স্থানীয় মানুষ ছাড়াও আশপাশের বাসিন্দারাও ভিড় জমাতেন। হরিনাম সংকীর্তন, বিভিন্ন রকমের বাজনা ও জয় তারা ধ্বনি সহযোগে তারা মা-কে রথে চাপিয়ে গ্রাম ঘোরানো হত। পরবর্তীকালে কলকাতার জনৈক আশালতা সাধু খাঁ নামে ভক্ত তারাপীঠে রথ ঘর তৈরি করে দেন। আনুমানিক ১৯৭০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধায়ের হাত দিয়ে রথ ঘরের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে পিতলের রথ তৈরি করা হয়েছে। এখন রথটি মন্দিরের আশেপাশের এলাকা পরিক্রমা করে। উলটো রথও একইভাবে তারাপীঠ প্রদক্ষিণ করে মন্দিরে প্রবেশ করেন। কথিত আছে, রথের দড়িতে টান দিলে সকল পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং তারাপীঠের এই রথযাত্রায় অংশ নিলে অসীম পুণ্য লাভ হয়। রথ হতে মায়ের প্রসাদ হিসাবে বাতাসা, প্যাঁড়া ছোঁড়া হয়। সেই প্রসাদ গ্রহণ করতে ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পরে যায়।




