কৌশিকী অমাবস্যাকে সামনে রেখে তারাপীঠে ভক্তদের মাতৃ দর্শন আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে চালু হল অনলাইন বা ডিজিটাল টিকিট পরিষেবা । রবিবার পাইলট প্রকল্প হিসেবে “ডিজিটাল তারাপীঠ” পরিষেবার সূচনা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বাড়িতে বসেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিকিট বুক করতে পারবেন ভক্তরা।
এর ফলে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, অন্যদিকে ভিড় নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।এদিন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, রামপুরহাটের মহকুমাশাসক অশ্বিন রাঠোর, সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার, তারাপীঠ সেবাইত সমিতি এবং তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এই অনলাইন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রণামি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে মাতৃ দর্শনের জন্য বুকিং করা যাবে। শুধু দর্শন নয়, পুজো বুকিং, ডোনেশন এবং ভোগ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মতো পরিষেবাও ধাপে ধাপে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৌশিকী অমাবস্যায় বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে এবার মন্দিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দর্শনার্থীদের জন্য তিনটি পৃথক লাইন থাকবে—একটি পে লাইন, যার মাধ্যমে মন্দিরের উন্নয়নের জন্য প্রণামি গ্রহণ করা হবে; একটি প্রোটোকল লাইন এবং একটি ফ্রি লাইন। তবে নিরাপত্তার কারণে কোনও দর্শনার্থীকেই শেষ পর্যন্ত মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে মন্দির কমিটি।
কৌশিকী অমাবস্যায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির চত্বরে সিসিটিভির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিজিটাল পরিষেবা চালু হলে শুধু ভক্তদের সুবিধাই বাড়বে না, মন্দির পরিচালন ব্যবস্থাতেও স্বচ্ছতা আসবে। কতজন ভক্ত মন্দিরে এলেন, কত টাকা প্রণামি বা ডোনেশন হিসেবে জমা পড়ল—তার হিসাব আরও সুনির্দিষ্টভাবে রাখা সম্ভব হবে।
পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে ভক্তরা বাড়িতে বসেই মন্দিরের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ জানাতে পারবেন।মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল ব্যানার্জি এবং সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জিরা মনে করছেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে মন্দিরের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে। এতদিন মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে যে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ উঠত, এই অনলাইন ব্যবস্থার ফলে তা অনেকটাই বন্ধ হবে বলেও তাঁরা আশাবাদী। বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন তারাপীঠের উন্নয়নে এটি একটি নতুন সংযোজন সাধারণ মানুষ এবং দূরের ভক্তরা এর ফলে অনেকটাই উপকৃত হবেন।
আগে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে গিয়ে সেবাই বা মন্দির কমিটির অনেকেই বাড়তি টাকা তুলতেন বলে যে অভিযোগ উঠতো অনলাইন ব্যবস্থায় তা অনেকটাই বন্ধ হবে বলেই মনে করেন দর্শনার্থীরা। তাদের মতে এতে দুর্নীতি যেমন হবে না তেমনি সময় বাঁচবে সুষ্ঠ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাকবে অযথা ভিড় এড়ানো যাবে শুধু তাই নয়, জেলার বাইরে থেকে যারা আসবেন তারা আগের থেকে তাদের সুবিধামত সময়ের টিকিট কেটে মাতৃ দর্শন করতে পারবেন।
কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা চালুর এই প্রশাসনিক উদ্যোগে ভক্তদের সুবিধার পাশাপাশি মন্দির পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হল বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রায় সকলেই।




