মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেশজুড়ে পালিত হল শিক্ষক দিবস। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনকে সামনে রেখে শনিবার বীরভূম জেলার বিভিন্ন স্কুলে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়। কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানানো হয়, কোথাও আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করা হয়। কলকাতায় নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে শিক্ষা দপ্তরের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী শিক্ষক দিবসে আশ্বাস নেন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলার হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনবেন। 


বীরভূমের ময়ূরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণ বহড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও রামপুরহাট জিতেন্দ্র লাল বিদ্যাভবনে শিক্ষক দিবস মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। ছাত্র ও শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল। ইটাগড়িয়া হাই স্কুল ও বীরভূম জেলা স্কুলেও শিক্ষক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নানান অনুষ্ঠান। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মহঃবাজারে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ গৃহশিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, জ্ঞানার্জন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে গৃহশিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি গৃহশিক্ষকরাও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের সেই অবদানকে প্রকাশ্যে সম্মান জানানোর উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাঁইথিয়া বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী তারাপদ দাস, সন্তোষ ভান্ডারী, বাপ্পাদিত্য ঘোষ-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অন্যদিকে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রেরণার উদ্যোগে বিকেলে ডাঙ্গালপাড়ায় ঘরোয়া ভাবে শিক্ষক দিবস অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এদিন দুজন স্কুল শিক্ষক, একজন গৃহ শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষক দের সম্বর্ধনা জানানো হয়। শনিবার শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দিশা নাট্যাঙ্গনের উদ্যোগে সিউড়ির রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত হয় নাট্য উৎসবের বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সুবিনয় দাস এবং শিক্ষানুরাগী ও প্রভাত জ্যোতির্ময়ী পরিবারের প্রাণপুরুষ লছমণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাক্তন অধ্যাপক নারায়ণপ্রসাদ ভট্টাচার্য কে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়।
এর পাশাপাশি দিশা নাট্যাঙ্গনের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে, অরূপ রায়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। গান ও নাটকের মাধ্যমে শিক্ষক দিবসের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চস্থ হয় দুটি নাটক। সুজিত ঠাকুরের রচনা ও নির্দেশনায় দিশা নাট্যাঙ্গনের নাটক ‘অনার্য’ এবং ভারতীয় গণনাট্য সংঘের রুদ্রবীণা শাখার নাটক ‘একটি শেষ বিচার সভা’ দর্শকদের সামনে পরিবেশিত হয়। নাটক ও সংগীতের মেলবন্ধনে শিক্ষক দিবসে রবীন্দ্র সদনে দিশা নাট্যাঙ্গনের নাট্য উৎসবে সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে জমজমাট।




