প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

মথুরা থেকে সিউড়ি, জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণনামে ভক্তির জোয়ার

সকোথাও তিনি কানাইয়া, কোথাও গোপাল, কোথাও গোবিন্দ, আবার কোথাও মাধব, মুরলীধর, দ্বারকাধীশ, রণছোড়জি, শ্যামসুন্দর। ভক্তের কাছে নাম আলাদা হলেও আরাধ্য এক—শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও বৈষ্ণব ভাবধারার এক গভীর আবেগের দিন।

পুরাণ ও বৈষ্ণব ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে মথুরা ও বৃন্দাবন। মথুরাকে কৃষ্ণের জন্মভূমি এবং বৃন্দাবনকে তাঁর বাল্য ও কৈশোরের লীলাক্ষেত্র হিসেবে মানেন ভক্তরা। জন্মাষ্টমীতে তাই মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ও কেশবদেব মন্দির থেকে বৃন্দাবনের বাঁকে বিহারী, রাধারমণ, গোবিন্দদেব-সহ বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। মথুরার জন্মাষ্টমী উদযাপনও সময়ের সঙ্গে ছোট পরিসরের অনুষ্ঠান থেকে বিশাল জনসমাগমের উৎসবে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে গুজরাটের দ্বারকায় দ্বারকাধীশ, ডাকোরে রণছোড়জি, আর দেশের নানা প্রান্তে গোবিন্দ ও গোপালের বিভিন্ন রূপে পূজিত হন শ্রীকৃষ্ণ। জন্মাষ্টমীর দিনে মন্দির সেজে ওঠে আলো, ফুল ও নানা অলঙ্কারে। ভক্তদের কণ্ঠে ভজন, কীর্তন, কৃষ্ণনাম—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ। দ্বারকা ও ডাকোরের মন্দিরেও এবারের জন্মাষ্টমীতে বিপুল ভক্তসমাগমের ছবি সামনে এসেছে। বাংলার ক্ষেত্রেও কৃষ্ণভক্তির ইতিহাস বহু পুরনো। বিশেষ করে নদিয়ার নবদ্বীপ ও মায়াপুর গৌড়ীয় বৈষ্ণব ভাবধারার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। পঞ্চদশ শতকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে বাংলায় কৃষ্ণপ্রেম, নামসংকীর্তন ও ভক্তিবাদের এক নতুন জোয়ার তৈরি হয়। নবদ্বীপ আজও সেই বৈষ্ণব ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ। মায়াপুরে রয়েছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনের প্রধান কেন্দ্র, যেখানে দেশ-বিদেশের ভক্তরা সারা বছরই আসেন। চন্দ্রোদয় মন্দিরে রাধা-মাধব, পঞ্চতত্ত্ব, নৃসিংহদেব প্রভৃতি বিগ্রহের আরাধনা হয়। জন্মাষ্টমীর মতো বিশেষ তিথিতে সেখানে কীর্তন, পূজা, অভিষেক ও প্রসাদ বিতরণকে ঘিরে তৈরি হয় বিশাল আয়োজন। শুধু মথুরা-বৃন্দাবন বা মায়াপুরেই নয়, বাংলার বিভিন্ন প্রাচীন কৃষ্ণমন্দিরেও জন্মাষ্টমী ঘিরে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন হয়। বিষ্ণুপুরের মদনমোহন ও শ্যামরায় মন্দির, শান্তিপুরের শ্যামচাঁদ মন্দির, কালনার কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দিরের মতো ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলি বাংলার কৃষ্ণভক্তির দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। ছবি সৌজন্যে ফেসবুক

সেই সর্বভারতীয় কৃষ্ণভাবনারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল বীরভূমের সিউড়িতেও। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সিউড়িতে বের হল বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা। দক্ষিণ বীরভূম জেলা কমিটির উদ্যোগ ও আয়োজনে এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন সমিতির পরিচালনায় এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন কৃষ্ণপ্রেমী ও হিন্দু ধর্মপ্রাণ বহু মানুষ।খোল-করতালের তালে, কৃষ্ণনাম ও ধর্মীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সিউড়ি শহরের রাজপথ। শোভাযাত্রায় কৃষ্ণ, রাধা, রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার সাজে অংশ নেন ভক্তরা। ছিল নানা ট্যাবলোও।

সাধারণ মানুষের উৎসাহ, ভক্তদের আবেগ এবং ধর্মীয় উচ্ছ্বাসে এদিন শহরের পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সেজে উঠেছিল সিউড়ির গৌড়ীয় মঠ-সহ শহরের বিভিন্ন কৃষ্ণমন্দির। কোথাও ফুল ও আলোর সাজ, কোথাও বিশেষ পুজো-অর্চনা, আবার কোথাও কীর্তন ও ভজনের আয়োজন। মন্দিরের পাশাপাশি বহু বাড়িতেও পালিত হয় জন্মাষ্টমী। পরিবারের ছোট্ট গোপালকে নতুন পোশাকে সাজিয়ে, ফুল-মালা দিয়ে, ভোগ নিবেদন ও পুজো-অর্চনার মধ্য দিয়ে কৃষ্ণের জন্মতিথি পালন করেন ভক্তরা।

কৃষ্ণের জন্মের সেই পৌরাণিক মুহূর্তকে স্মরণ করে মধ্যরাতে ঘণ্টা, শঙ্খ, কীর্তন ও উলুধ্বনিতে যখন মন্দির ও গৃহস্থের আঙিনা মুখর হয়ে ওঠে, তখন মথুরা, বৃন্দাবন, দ্বারকা, ডাকোর, নবদ্বীপ কিংবা মায়াপুরের সঙ্গে যেন এক অদৃশ্য ভক্তির বন্ধনে যুক্ত হয়ে যায় সিউড়িও। হাজার হাজার বছরের কৃষ্ণকথা, বৈষ্ণব সংস্কৃতি এবং মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস—সব মিলিয়ে জন্মাষ্টমী আজও একইভাবে মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে প্রেম, ভক্তি ও আনন্দের অনুভূতি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe