বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়। এই ঘটনায় দীপঙ্কর রায় এবং শেখ আনারুল নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত দুজনই বোলপুরের বাসিন্দা এবং জমি-জায়গা কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ ভুন্ডেজ জানান, চন্দন ভল্লা খুনের ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে দীপঙ্কর রায় ও শেখ আনারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কেন চন্দন ভল্লাকে খুন করা হয়েছিল, সেই মোটিভ এখনও স্পষ্ট নয়। খুনের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। পুলিশ মনে করছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই যুবক সরাসরি গুলি চালিয়ে চন্দন ভল্লাকে খুন করেননি। ফলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের প্রকৃত ভূমিকা কী এবং গুলি চালিয়েছে কে বা কারা, তা জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।খুনের সময় কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করতে চায়নি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃত দীপঙ্কর রায় ও শেখ আনারুলকে মঙ্গলবার বোলপুর আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, পরিকল্পনা এবং আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তদন্তকারীরা।
এদিকে তদন্তে আরও গতি আনতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ কুকুর নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ফরেনসিক দলের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লাকে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মুখে কাপড় বাঁধা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালানোর পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।




