ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে পাঠমুখী ও মাঠমুখী হওয়ার আহ্বান জানানো হল সাধারণ গ্রন্থাগার দিবসের অনুষ্ঠানে। বর্তমানে মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ যেমন খেলার মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তেমনই কমছে গ্রন্থাগারে পাঠকের উপস্থিতিও। সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনের জন্য খেলার মাঠ ও গ্রন্থাগারের গুরুত্ব অপরিসীম—সাধারণ গ্রন্থাগার দিবসের অনুষ্ঠানে এসে এমনই মন্তব্য করলেন বীরভূম জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা সমাজসেবী শ্যামসুন্দর গঁড়াই।
সোমবার বীরভূম জেলা গ্রন্থাগারে সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়াদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাঁর কথায়, মাঠে খেললে শরীর সুস্থ থাকবে, আর গ্রন্থাগারে বই পড়লে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়বে।
জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্থানীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা বিজেপির সভাপতি তথা আইনজীবী উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরি অফিসার প্রতীক রায়, আলোচক কৃষ্ণেন্দু প্রামাণিক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরি অফিসার প্রতীক রায় বলেন, গ্রন্থাগারকে শুধু নির্দিষ্ট ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, সাধারণ মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে ‘বইয়ের পয়েন্ট’ তৈরি করার ভাবনাও রয়েছে। সেখানে গ্রামের মানুষ বই নিতে পারবেন এবং পড়া হয়ে গেলে সেই বই আবার সেখানে রেখে যেতে পারবেন। এর মাধ্যমে গ্রন্থাগারের বই আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বীরভূম জেলা বিজেপির সভাপতি তথা সমাজসেবী ও আইনজীবী উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গ্রন্থাগারকে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে সকলকে মুক্তমনে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারকে রাজনীতিমুক্ত রেখে জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়-সহ দেশপ্রেমিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের লেখা বই আরও বেশি করে গ্রন্থাগারে রাখা উচিত। এর ফলে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং দেশের ইতিহাস ও গৌরবগাথা সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ ধারণা লাভ করবেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক কৃষ্ণেন্দু প্রামাণিক বলেন, ‘বই পাঠকের বন্ধু।’ অতি আধুনিকতার যুগেও বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা একটুও কমেনি। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বই পড়ার অভ্যাস মানুষের জ্ঞান ও মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বীরভূম জেলা গ্রন্থাগারিক সুদীপ কুমার মণ্ডল জানান, জেলায় মোট ১২৩টি গ্রন্থাগার রয়েছে। সেখানে সাধারণ পাঠকরা বই পড়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি জেলা গ্রন্থাগারকে আরও আধুনিক করে তোলার কাজও শুরু হচ্ছে। গ্রন্থাগারের ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আকৃষ্ট করতে আরও উন্নত ও মনোরম পাঠকক্ষ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে জেলা গ্রন্থাগার সভা কক্ষে বসে আঁকো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
বীরভূম জেলা গ্রন্থাগারে উদযাপিত সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস।‘পাঠমুখী ও মাঠমুখী হোক ছাত্রছাত্রীরা’, বার্তা শ্যামসুন্দর গঁড়াইয়ের
August 31, 2026 6:30 PM




