রামপুরহাটে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে ঘিরে যে তদন্ত চলছে, তা বন্ধ হবে না বলেও স্পষ্ট জানালেন তিনি।
শনিবার রামপুরহাটে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মানে এই নয় যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে তা আমরা থামাব। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ নিয়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছবি সৌজন্য মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক 
প্রশাসনিক বৈঠক শেষে বিকেলে প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিবার চাইলে প্রয়োজনীয় তদন্তের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জানিয়েছেন, প্রশাসন কিংবা বিজেপির কেউ আশিসবাবুকে উত্যক্ত করেননি। কেন তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তাঁরাও জানেন না। বিষয়টির মধ্যে রহস্য রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ধ্রুব সাহা, যিনি তাঁকে পরাজিত করেছিলেন, তিনিও এসে আশিসবাবুকে প্রণাম করে গিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাও তাঁকে সম্মান করতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আশিসবাবুর স্ত্রীও কোনও অভিযোগ করেননি, শুধু পাশে থাকার আবেদন জানিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উনাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। বৌদি আমার উপর ভরসা রেখেছেন।” আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষিমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁকে একটি কালীমূর্তি উপহার দেওয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই মূর্তিটি এখনও আশিসবাবুর বাড়িতে পুজিত হচ্ছে।
এদিন প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন, আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। যা বলার উনাকে বলেছি। এনিয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলব না।” বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় এবং বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল। শতাব্দী রায় বলেন, “পরিবার কোনও দাবি রাখেননি। শুধুমাত্র জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী আসায় তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা কোনও নিরাপত্তা চান না।”
এদিকে প্রশাসনিক বৈঠকে তারাপীঠের উন্নয়ন ও আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, টাকার কোনও অভাব হবে না। কৌশিকী অমাবস্যা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তারাপীঠে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের থাকার সুবিধার জন্য একটি বড় টুরিস্ট লজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, সব শ্রেণির মানুষ যাতে তারাপীঠে এসে পুজো দিয়ে থাকতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।
কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ-প্রশাসনকে পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সহায়তা শিবির রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের তত্ত্বাবধানে কৌশিকী অমাবস্যার জন্য বরাদ্দ পাঁচ কোটি টাকা উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, সাংসদ অসিত মাল, সাংসদ শতাব্দী রায়-সহ জেলার বিধায়করা এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা।




