ঐতিহাসিক ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮৪ বছর পূর্তির দিনে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে তিরঙ্গা যাত্রায় জনজোয়ার দেখল সিউড়ি। রবিবার বিকেল চারটের সময় সিউড়ির সার্কিট হাউস মোড় থেকে জাতীয় পতাকা হাতে এই পদযাত্রার সূচনা হয়। সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিজেপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
পদযাত্রাকে ঘিরে সিউড়ির রাজপথে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। জাতীয় পতাকা হাতে মানুষের মিছিলের সঙ্গে সিউড়ির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করে পদযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দেমাতরম’ সহ দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ।
পদযাত্রায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পা মেলান রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপকুমার সাহা, বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শহর সভাপতি সুনয়ন ভান্ডারী, জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্যামসুন্দর গড়াই, আরএসএস-এর প্রচার প্রমুখ শিবাজীমণ্ডল-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা।

সার্কিট হাউস মোড় থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রা শেষ হয় সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ উপস্থিত বিধায়ক ও অতিথিরা।
এরপর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী ও বিধায়করা।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি এই রাজ্যে সেই অর্থে পালন করা হত না। রাষ্ট্রবাদী সরকার গঠিত হলে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন উন্নয়নের প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, সিউড়ি-প্রান্তিক রেললাইন পাতার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। পাশাপাশি রাজনগরের রেললাইনের জন্য জমির চূড়ান্ত মাপজোক ও চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু হবে বলে জানান তিনি। কলকাতায় বীরভূম ভবন তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে সিউড়ি সুপার মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে পরিণত করার কথাও জানান তিনি।
ঐতিহাসিক ৯ আগস্টের তাৎপর্যকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়নের বার্তা দেন বিধায়করা । শেষে উপস্থিত সকলের সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিরঙ্গা যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটে।




