ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দশম শ্রেণির ছাত্র মৈনাক দাসের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার থেকে উত্তাল সিউড়ি শহর। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. দেবস্মৃতি দেবনাথ, সংশ্লিষ্ট নার্স এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের গ্রেফতার ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি নার্সিংহোম বন্ধের দাবিতে মৃতদেহ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল থেকে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেন সাধারণ মানুষ।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর মৈনাকের দেহ সিউড়িতে পৌঁছলে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ও শেষ দেখা দেখতে ১৩র পল্লী ক্লাব ও তাঁর বাসভবনে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। এরপর মৃতদেহ নিয়ে মিছিল বের হয় প্রথমে মসজিদ মোড় এবং পরে সিউড়ির বেণীমাধব মোড়ে মৈনাক দাস এর মৃত্যুর বিচার চেয়ে পথ অবরোধ করা হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরোধ চলায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্তব্ধ হয়ে পড়ে মসজিদ মোড় এলাকা। প্রত্যেকের চোখেই জল নিজের ঘরের ছেলেকে হারানোর বেদনা। ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু মন থেকে মেনে নিতে পারেনি কেউ তাই সকলেই বিচার চাইতে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছেন। বারবার স্লোগান উঠেছে জাস্টিস ফর মৈনাক দাস।
মৃতদেহ যত সামনের দিকে এগিয়েছে তত সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে, বেড়েছে প্রতিবাদীর সংখ্যা । মৃতদেহ নিয়ে যখন মিছিল বেনীমাধব মোড়ে হাজির তখন কার্যত স্তব্ধ শহরের মেইন রাস্তা । রাস্তায় বসে পড়েছেন ছাত্র যুব মহিলা এবং সাধারণ মানুষ । শব বাহী গাড়িতে ছাত্রের মৃতদেহ রাস্তায় । একের পর এক দাঁড়িয়ে পড়েছে গাড়ি । পথ চলতি মানুষ যোগ দিয়েছেন বিচারের দাবিতে । বারবার স্লোগান উঠেছে গ্রেফতার করতে হবে কর্মরত চিকিৎসক নার্স ও নার্সিংহোমের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। মিছিলের পুরো ভাগে সিউড়ি থানার পুলিশের ভ্যান থাকলেও পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিএসপি-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আধিকারিকেরা আন্দোলনকারীদের বারবার বোঝাতে থাকেন । পুলিশকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করতে হবে এবং নার্সিংহোমটি বন্ধ করতে হবে।


আন্দোলনের সমর্থনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিজেপির জেলা সভাপতি উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা সম্পাদক শ্যামসুন্দর গড়াই এবং সিউড়ি শহর বিজেপির সভাপতি সুনয়ন ভাণ্ডারী। তাঁরা মৃত ছাত্রের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।বিক্ষোভে বহু মহিলা, ছাত্র ও যুবকরাও সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৈনাকের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হয়।
এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল সঙ্গে ছিলেন কালো সোনা মন্ডল ও উত্তম রজক। কৃষি মন্ত্রী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফোনে পুলিশ সুপারের সঙ্গেও কথা বলেন ।

পরে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে নার্সিংহোম বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছেও পৌঁছায় এবং তা মৃত ছাত্রের পরিবারকে দেখানো হয়। মন্ত্রীর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মৈনাক দাসের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য তিলপাড়ার সতীঘাটা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।উল্লেখ্য, রবিবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল দশম শ্রেণির ছাত্র মৈনাক দাসকে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং ভুল ইনজেকশন দেওয়ার ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন মৃতের পরিবার। অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।




