প্রথম পাতা সংবাদ ব্রেকিং নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজ্য জেলা বিনোদন সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলাধুলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ভিডিও গ্যালারি সমাজসেবা মতামত
BREAKING NEWS:

গ্রেপ্তার তৃণমূল ব্লক সভাপতিরা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জেলা থেকে গ্রেপ্তার অনেকেই।আগে কি হয়!!

খেলা শুরু বীরভূমে। খেলা হচ্ছে বিজেপি ও তৃণমূলের । দর্শক আমজনতা আম্পায়ারের ভূমিকায় সাধারণ প্রশাসন , ব্যাট করছেন পুলিশ। এমন আলোচনা সিউড়ির পুরনো চায়ের দোকানে। শুক্রবার প্রবল বৃষ্টিতে নিজেকে বাঁচাতে চায়ের দোকানে ঢুকেছিলাম সেখানেই সব বয়সী ‘চা খোর’রা রয়েছেন।

বৃষ্টিভেজা দুপুরে চায়ের কাপে চুমুক দিতেই রাজনৈতিক তরজা তখন মধ্য গগনে। শুনলাম রাজনৈতিক পালাবদল হতেই কেউ কেউ জামা চেঞ্জ করে দল বদলু হয়ে গেছে ,তাঁরই মাঝে একজন বলে উঠলেন কাগজে বেরিয়েছে এরাও নাকি ব্যবসায়ীদের ফোন করে’ টাকা চাওয়া ‘শুরু করেছে! সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন প্রশ্ন করে উঠলেন তাহলে পরিবর্তনটা হলো কিসের? সিগারেট ধরিয়ে একজন উত্তরটা দিতে যাবেন এমন সময় অতি বামপন্থী এক দাদা বলে উঠলেন পাঁচ বছরও টিকবে না ‘বামই ভরসা’। বাম আমলে শিল্প হয়েছে কিছু মানুষের চাকরি হয়েছে । কেন তৃণমূল আমলে এত সিভিক এর চাকরি হলো, কিছু ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও কিছু মানুষ তো স্কুল শিক্ষকের চাকরি পেয়েছে ,পুলিশের নিয়োগও তো ভালই হয়েছে? এগুলোকে কাজ বলে চা শেষ করে কাপটা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে সদ্য বিজেপি কে ভোট দেওয়া তরুণ ছোকরা বলে উঠল ,”কাকু কাজ তো হচ্ছে দেখছেন না ?এই কদিনেই জেলার কতজনকে ধরল পুলিশ ,রেখেছেন কোনো খোঁজ? ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় ও বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে পুলিশ” । সাঁইথিয়া থেকে গ্রেপ্তার 11 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলরের স্বামী বাপ্পাদিত্য দাস । তারপরেই সাঁইথিয়া থেকে গ্রেপ্তার মুন্নাও। বিজেপি করার অপরাধে চিনপাই গ্রামে এক কর্মী সমর্থকের বাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর, পার্টি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ এর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মিলন বাগদি ।

বিজেপি কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সদাইপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কয়েক বছর আগে মহ:বাজারে একটি খুনের ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে সিউড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন মহম্মদ বাজার ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি কালীপ্রসাদ ব্যানার্জি অন্যদিকে একুশে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মহম্মদ বাজার ১ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তাপস সিনহা কে গ্রেফতার করেছে মহম্মদ বাজার থানার পুলিশ। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় নানুরের জাহানাবাদ থেকে গ্রেপ্তার পিন্টু শেখ ও রাজু শেখও। অবৈধ পাথর ক্রাশার চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই মহ:বাজার ব্লক প্রশাসন চারজনের নামে এফআইআর দায়ের করেছে। পারুইয়ে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন সদাই শেখ নামে তৃণমূল নেতা। সিউড়ি দু’নম্বর ব্লকের নুরুল- অশ্বিনী ‘ফেরার’ । সিউড়ি শহরের অনেক কাউন্সিলরকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না, অনেকের নামে থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে ।বোলপুর থানায় কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মামন সেখের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে । গতকাল দুবরাজপুরে আবাস যোজনায় কাটমানি খাওয়ার অপরাধে ‘চটি’ পেটা হয়েছে তৃণমূল নেতা ! দেখুন না আরো কত কি হবে? এক নিঃশ্বাসে গত কয়েকদিনে তৃণমূলের ছোট বড় মাঝারি নেতাদের বাস্তব চিত্র শুনে কপালে ভাঁজ এসে গেল চা খেতে আসা ‘বৃদ্ধে’র। ডেউচা পাঁচামি কয়লা শিল্পের জন্য কিছু হবে না প্রশ্ন করলেন এক মাঝ বয়সী ? কয়লা প্রকল্পের মত তার কথাটাও আর ‘ধোঁয়াশা’ই রইল কেউ গুরুত্বই দিলেন না । এমন সময় চায়ের দোকানের মালিক বলে উঠলেন সবই তো হচ্ছে কিন্তু ১ জুন  থেকে অন্নপূর্ণার ভান্ডার দেওয়া হবে কি করে? সব সামলে ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ করতেই তো বিরক্তি এসে যাবে! তুমি থামত ,আগে একটা বিস্কুট দাও, আর চা টা গরম করো অর্ডার দিয়েই প্রাক্তন সৈনিক বলে উঠলেন তোমরা দেখো বীরভূমে একদিনেই শুধুমাত্র পাথর থেকেই সরকারি কোষাগারে জমা পরল প্রায় তিন কোটি টাকা! অথচ সরকারি কোষাগারে প্রথমে পড়তো মাত্র ১৯ লক্ষ পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ লক্ষ। বালি পাথর থেকে তাহলে কত আয় হতো ভাবতে পারছ? অথচ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই ভাবা হয়নি ! আমাদের এখান থেকেই যাওয়া পাথর বালি আমরা বেশি দামে কিনেছি । আর তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের টাকা দিয়ে কয়েকজন কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, অথচ আমাদের সদর শহর সিউড়িতে আমাদের বয়স্কদের বসার জায়গা নেই ,খেলোয়াড়দের জন্য কোন মাঠ নেই, শহরের সাধারণ পথচারীদের জন্য ফুটপাত নেই, সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য বিনা পয়সার কোন ভবন নেই, টয়লেট করার জন্য সিউড়ি শহরে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাথরুম নেই ।এখন যদি সরকারি কোষাগারে সব টাকা ঠিক মতন পৌঁছায় তাহলে কিছুতো একটা হবেই। দাদা হলেই ভালো । শুনছি মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘না খায়েঙ্গে না খানে দুঙ্গা’ সবাই এটাই মেনে চললে বিজেপি সংকল্পপত্রে যা যা বলেছে তাহলে সেগুলো নিশ্চয়ই হবে । সব তো বললেন খেয়াল করেছেন দিন দিন এলাকা বাড়ছে গাড়ি-ঘোড়া বাড়ছে, দুর্ঘটনা বাড়ছে, পথচারীদের জন্য ফুটপাত নেই ,থানার এলাকার বাড়লেও থানা গুলোতে সরকারি গাড়ির সংখ্যা বাড়েনি , হাসপাতালগুলোতে পরিকাঠামো থাকলেও পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, বিদ্যালয় গুলিতে অধিকাংশ স্কুলে ছাত্র নেই, কোন স্কুলে আবার টিচার কম । সরকারের কাজ অনেক খরচাও অনেক। ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হয়েছে ঠিকই, সামনে বর্ষা আসছে, আমাদের জেলার নদীগুলোর যা অবস্থা- ব্রীজ গুলোর যা চেহারা আটাত্তর ফিরে এলে কি যে হবে কে জানে! আমি হাঁ করে সব শুনছি দেখে কলপ করা কাকু বলে উঠলেন কি সাংবাদিক তুমি কিছু বলো আমি? আমি আর কি বলবো!! সময় তো পেরিয়ে যাচ্ছে না ,দেখুন না আগে কি হয় ?

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Follow Facebook

Follow Now

Subscribe Youtube

Subscribe