রাজ্যের পালাবদলের পর এই প্রথম কৌশিকী অমাবস্যা মহা পূর্ণোৎসবের চেহারা নিয়েছে। বুধবার বিকেল পাঁচটায় তারাপীঠ-রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি মোড়ে কৌশিকী অমাবস্যা মহা পূর্ণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এবারের কৌশিকী অমাবস্যায় প্রথমবার হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।
৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যায় পুণ্যার্থীদের ভিড় পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আটটি সেবা শিবির, আটটি চিকিৎসক দল, ২৪ ঘণ্টার ট্রমা পরিষেবা এবং ১০২ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ রুট ম্যাপ প্রকাশ করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার বিদিতরাজ ভুন্দেশের উদ্যোগে রোড ম্যাপ প্রকাশের পাশাপাশি চালু করা হয়েছে অনলাইন ম্যাপও। তারাপীঠের বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্পে থাকা বারকোড স্ক্যান করলে মোবাইলে ওই অনলাইন ম্যাপ দেখা যাবে। কোন রাস্তা নো-এন্ট্রি, সাধারণ দর্শনার্থী ও ভিআইপিদের প্রবেশের পথ কোথায়—সব তথ্যই জানা যাবে এই ম্যাপের মাধ্যমে।কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে মোতায়েন করা হয়েছে চার হাজারের বেশি পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী। থাকছেন ২০০ জন দমকল কর্মী এবং যেকোনও ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে ২৫ জনের বিপর্যয় মোকাবিলা দল। এছাড়াও থাকছে ২৭টি পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র ও ১১টি ওয়াচ টাওয়ার।
বীরভূমের পুলিশ সুপার জানান, বুধবার সকাল ১০টা থেকে নো-এন্ট্রি জোন চালু হবে। ফলে ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য ১৪টি জায়েন্ট স্ক্রিন ও ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ড্রোন এবং ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার সাহায্যে নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালাবে পুলিশ।নির্দিষ্ট ১১টি পার্কিং জোনে গাড়ি রাখার আবেদন জানিয়েছে বীরভূম পুলিশ। মন্দিরের সামনে জুতো না খুলে সোনার বাংলা মোড় সংলগ্ন নির্দিষ্ট স্থানে জুতো রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবারের কৌশিকী অমাবস্যায় ভক্তদের ভিড় বাড়বে ধরে নিয়ে রেল দপ্তর হাওড়া-রামপুরহাট রুটে একটি বিশেষ ট্রেন এবং ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে অতিরিক্ত কোচের ব্যবস্থা করেছে। পরিবহণ দপ্তর বিনামূল্যে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর শাটল পরিষেবা দেওয়ার জন্য আটটি বাস এবং কলকাতা থেকে বিশেষ দূরপাল্লার ১০টি বাসের বন্দোবস্ত করেছে।জলের সমস্যা মেটাতে পুণ্যার্থীদের জন্য ২০ লিটারের জলের ব্যারেলের পাশাপাশি আড়াই লক্ষ পানীয় জলের পাউচের ব্যবস্থা করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন।কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠকে আরও সৌন্দর্যময় করে তুলতে চন্দননগরের আদলে বিশেষ আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। দু’দিন ধরে স্থানীয় বাউল ও অন্যান্য লোকশিল্পীদের নিয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে ৪০টি লোকশিল্পীর দল। জীবিত কুণ্ড ও দ্বারকা নদীতে লেজার শো এবং আতশবাজি প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।উৎসব এলাকায় নিয়মিত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং জরুরি প্রযুক্তিগত সহায়তা বজায় রাখতে সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।




