ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই নাম লেখালেন অনুব্রত মণ্ডল।তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখাবেন, সেই গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল। সেই গুঞ্জনই সত্যি প্রমাণিত হলো শনিবার । বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হলো অনুব্রত মণ্ডলের নাম।
সেখানেই দেখা গেল বড় চমক। মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল।সম্মান কিছুটা ফিরে পেতেই স্বাভাবিক ছন্দে অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট মন্ডলও।তাঁকে বীরভূমের জেলা সভাপতির যখন এই দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখন অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমেই রয়েছেন। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের রাজ্য কমিটিতে এলেন শান্তনু সেন।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্র।হাওড়া জেলার সভাপতি পদে বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ (রাজা) সেন ,পশ্চিম মেদিনীপুরের সভাপতি প্রদীপ সরকার ,ঘাটালের সভাপতি সঞ্জয় বাঁকুড়ার সভাপতি রথীনবন্দ্যোপাধ্যায় ,পুরুলিয়ার উজ্জ্বল কুমার,পূর্ব বর্ধমানের রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়,পশ্চিম বর্ধমানের নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়,বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল,ডায়মন্ড হারাবারের শুভাশিষ দাশ,সুন্দরবনের গণেশ মণ্ডল,উত্তর কলকাতার ফসন্দীপন সাহা,দক্ষিণ কলকাতার দেবাশিস কুমার,হাওড়া সদরের দায়িত্বে এলেন সৃষ্টিধর ঘোষ।
বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের দাপট বহু পুরোনো। তৃণমূল আমলে তিনিই ছিলেন বীরভূমের অবিসংবাদিত নেতা। অনুব্রত মণ্ডলের বিভিন্ন ডায়লগ নিয়ে চর্চাও কম হয়নি। বীরভূমের মাটিতে কান পাতলে শোনা যায় অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের গোষ্ঠীর নিরন্তর টানাপড়েনের কথাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই সিউড়িতে নির্বাচনী মঞ্চের উপর এই দুই জনের মধ্যে টানাপড়েন প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। সেই কাজল শেখ এখন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে। বিধানসভা ভোটে হাঁসন থেকে জিতেছেনও তিনি। এ বার সেই গোষ্ঠীই অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূম জেলার সভাপতি করল। ফলে কাজল বনাম কেষ্টর লড়াই বাড়বে নাকি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হাতে হাত মিলিয়ে নতুন তৃণমূল চলবে এইদিকেই তাকিয়ে বীরভূম বাসীরা। 
বীরভূমে অনুব্রতর ক্ষমতায় ধাক্কা লাগে গোরু পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরে। তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছিলেন। ওই টালমাটালের পরে বীরভূম জেলায় তৃণমূল আলাদা করে কোর কমিটি তৈরি করে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও অনুব্রত আর তৃণমূল জেলা সভাপতি পদে আসেননি। কোর কমিটির সদস্য হয়েছিলেন, সেই কোর কমিটি বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠন দেখত। এখন বীরভূমের সেই নেতাদের প্রথমসারির প্রায় সকলেই ঋতব্রত শিবিরে। সেই তালিকায় শনিবার সংযোজিত হলো অনুব্রত ওরফে কেষ্টর নাম। তিনি আবারো সামলাবেন বীরভূম।
ঋতব্রত তৃণমূলের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণাও করা হয় । এছাড়াও মুখপাত্র হিসেবে যারা রইলেন তারা হলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী,আখরুজ্জামান,শান্তনু সেন,সুদীপ রাহা,কোহিনূর মজুমদারসন্দীপন সাহা এবং অপূর্ব সরকার (ডেভিড) প্রমুখ।




