বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হল ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য যোগ আজ আর শুধু একটি ব্যায়াম পদ্ধতি নয়, বরং সুস্থ জীবন, মানসিক প্রশান্তি ও মানবিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “Yoga for Healthy Ageing” অর্থাৎ সুস্থ বার্ধক্যের জন্যযোগ।
একুশে জুন রবিবার দেশের প্রধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। তিনি প্রত্যেক নাগরিককে দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা, প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, যোগ প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করেন। কয়েক হাজার মানুষের একযোগে যোগাসন অনুশীলনের দৃশ্য রেড রোডকে এক বিশাল যোগমঞ্চে পরিণত করে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে শুধু কলকাতাই নয়, সমগ্র দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা যোগাভ্যাসে অংশ নেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার সদস্যরাও পাহাড়, সমতল, সমুদ্র ও সীমান্ত এলাকায় বিশেষ যোগ শিবিরের আয়োজন করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শিলংয়ে সেনা সদস্যদের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগকে “সমগ্র জীবনব্যবস্থার বিজ্ঞান” বলে উল্লেখ করেন।দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি দপ্তরেও দিনটি বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণযোগাভ্যাস, সচেতনতা শিবির, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বীরভূম জেলাতেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীরভূম ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়। সিউড়ি পৌরসভার সকল কর্মীরাও যোগ দিবসে অংশগ্রহণ করেন। সিউড়ি ইরিগেশন কলোনি ময়দানে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকেও দিনটি পালন করা হয় সেচ বিভাগের স্টাফ ও সাধারণ মানুষ যোগ অভ্যাস করেন । ইরিগেশন কলোনির মাঠে কারাটে ও ফিটনেস একাডেমীর সদস্যরাও সাত সকালেই যোগ দিবস পালন করেন । এছাড়াও বীরভূম জেলা স্কুল সহ বীরভূমের বিভিন্ন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং যোগ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির উদ্যোগে গণযোগাভ্যাস অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সকালে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বীরভূম জেলা গ্রন্থাগারের কর্মীরাও যোগ অভ্যাস করেন । সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাট, নলহাটি, লাভপুর, দুবরাজপুরসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শত শত মানুষ যোগাভ্যাসে অংশ নেন। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রেরণা সিউড়ি বীরভূমের উদ্যোগ আয়োজন ও পরিচালনায় বীরভূম সাহিত্য পরিষদ সভাকক্ষে আর্ট অফ লিভিং বীরভূম জেলা শাখার সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক শিল্পী ও কর্মীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়।
জাতিসংঘের স্বীকৃত আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। ভারতের উদ্যোগে জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাবের ভিত্তিতে দিনটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই যোগ দিবস উদযাপিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি, মানসিক চাপ হ্রাস, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং সুস্থ, সচেতন ও সুষম জীবনের প্রতি মানুষের অঙ্গীকারের দিন হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬ আবারও প্রমাণ করল—যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি মানবতার মিলন, সুস্বাস্থ্য ও শান্তির এক বিশ্বজনীন বার্তা।




