সএক সপ্তাহব্যাপী অরণ্য সপ্তাহ উদযাপনের পর সোমবার সিউড়ি ডি আর ডি সি সভাকক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হল বন দপ্তরের বিশেষ অরন্য সপ্তাহ কর্মসূচি।
১৪ জুলাই শুরু হওয়া এই কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার রাহুল কুমার, জেলা পুলিশ সুপার বিদিতরাজ ভুন্ডেস,বন দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা। প্রদীপ প্রজ্জলন করে অরন্য সপ্তাহ সমাপনী অনুষ্ঠান কর্মসূচির সূচনা করেন জেলাশাসক ধবল জৈন। বন্দে মাতরম ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এদিন অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্রবন্ধ রচনা, অঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, বন সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার রাহুল কুমার বলেন, এবারের অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের হাতে এই চারা তুলে দিয়ে বৃহত্তর সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অরন্য সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রেরণা সিউড়ি বীরভূমের পরিচালনায় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
অরণ্য সপ্তাহের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিল সতীপীঠ লাভপুরের ফুল্লরাতলা প্রাঙ্গণে । ৫১টি সতীপীঠের উদ্দেশ্যে প্রতীকীভাবে ৫১টি নারকেল গাছ রোপণ করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক দেবাশিস ওঝা, জেলাশাসক ধবল জৈন, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার রাহুল কুমার, বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসূত্রে বেঁধে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।


অন্যদিকে, অরণ্য সপ্তাহের সমাপ্তি উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রেরণা সিউড়ি বীরভূম-এর উদ্যোগে বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান বর্ষামঙ্গল।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার রাহুল কুমার। উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী শ্যামসুন্দর গরাই, সুনয়ন ভাণ্ডারী, দেবদীপ রায়, স্বপন দাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে চারা গাছ তুলে দেওয়া হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান সকলে। এরপর সিউড়ি শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের পক্ষ থেকে বর্ষামঙ্গল উপলক্ষে করা হয় নৃত্য ও গানের অনুষ্ঠান।




