রবিবার বিকেলের পর থেকেই আচমকা কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তারপরই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের পুরন্দরপুর সংলগ্ন একাধিক গ্রামাঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঝড়ের দাপট এতটাই প্রবল ছিল যে বহু কাঁচা ও মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, খড়ের চাল উড়ে গিয়েছে, এমনকি বহু টিনের চালও ঝড়ে ছিটকে পড়ে।

বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরন্দরপুর ,সাজিনা ,তাপাসপুর সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে রাস্তার উপর। কোথাও ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের পোল, কোথাও আবার ছিঁড়ে গিয়েছে বৈদ্যুতিক তার। ফলে বহু গ্রামে রাত থেকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সমস্যা পানীয় জল নিয়েও।এখনও বহু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে রয়েছে।গ্রামবাসীরা জানান, ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার জেরে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠের ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য চাষের জমি কিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক কৃষক চোখের সামনে কয়েক মাসের পরিশ্রম নষ্ট হতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন। 
তবে ঝরে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় বহু মানুষ সকাল থেকে সেই গাছ নিজেরাই কেটে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। গ্রামের এক প্রবীণ মানুষ বলেন,”প্রবল ঝড়ে কারোর হলো সর্বনাশ সেই ঝড়ে গাছ পড়ে কারোর আবার পৌষ মাস”।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝড়ের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামাঞ্চলে। বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। বেশ কিছু কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। পুরন্দরপুরে লক্ষ্মী কর্মকার আরতি কর্মকার দের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাড়ির পাশেই বড় বটগাছ উপরে গিয়ে একটি দোকানের উপর পড়েছে। সাজিনা গ্রামে তপন ডোমের বাগানবাড়িতে ভেঙে পড়েছে বড় জাম গাছ। গাছ ভর্তি জাম গাছ ভেঙে পড়ায় ও কাল ঝড়ে বহু আম পড়ে যাওয়ায় আক্ষেপ পরিবারের ।
গ্রাম লন্ডভন্ড হলেও কোন প্রাণহানির খবর না পাওয়াই স্বস্তি প্রশাসনের। যদিও ঝড়ের পর থেকেই প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সাহায্যের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




