১০ হাজার কোটি টাকার ডিসিআর কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবী করলেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় । মঙ্গলবার নিজবাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে টোলসহ অবৈধ সমস্ত বালি বা পাথর খাদান ইত্যাদি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।অবৈধ পাথরের কারবার বন্ধের জন্য ডিসিআর বন্ধেরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী । সিউড়ি সার্কিট হাউসে কয়েকদিন আগেই বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন এর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বীরভূমের নবনির্বাচিত বিজেপির বিধায়কেরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভূমি দপ্তরের আধিকারিক ,পুলিশ, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট এবং এমভিআই দপ্তরের আধিকারিকেরা যৌথভাবে নজরদারি চালাবে, রাজস্ব আদায়ের জন্য ডিসিআর চালান দেবেন। জেলার নটি ডিসিআর চেক গেটে মুরারই ,নলহাটি, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাটে প্রথম দুদিনই যা রাজস্ব আদাই হয়েছে তা দেখেই চমকে উঠেছেন আধিকারিকেরা। পাথর শিল্পাঞ্চলে আড়াইশো ক্রাশার রয়েছে যেগুলি বেআইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এপ্রিল ২০২৫ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিদিন ১৯ লক্ষ টাকা করে পাথর থেকে রাজস্ব আদায় হত। এটি সরকারের হয়ে একটি বেসরকারি সংস্থা আদায় করত । লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির আন্দোলনের চাপে পড়েই নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এই রাজস্ব আদায় বেড়ে প্রতিদিন ৭০ লক্ষ টাকা করে হয়। পরবর্তীতে বিজেপি সরকার ক্ষমতা আসার পর পাথর বালি সহ অবৈধ কারবার বন্ধের নির্দেশ দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকার নিজেই ডিসিআর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাথর থেকে রাজস্ব আদায় পুরোপুরি সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে ।সরাসরি ডিসিআর ক্ষেত্রে সরকারি চারটি দপ্তর একযোগে ১৭ই মে কালেকশন শুরু করে। প্রথম দিনেই এক কোটি কুড়ি লক্ষ টাকা ১৮ মে সেই আদায় বেড়ে দাঁড়ায় দুই কোটি তিরিশ লক্ষ টাকা আর ১৯ তারিখে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাছাকাছি । সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ বলেন বিজেপি সরকার আসার পরেই চেয়ে টাকা গত কয়েক দিনে আদায় হয়েছে সেই হিসেবে ধরলে প্রায় ১০০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে গত ১৫ বছর ধরে। তার আরো অভিযোগ রেশন কেলেঙ্কারি থেকেও বড় দুর্নীতি হয়েছে এই ডিসিআর নিয়ে। তাই ডিসিআর কেলেঙ্কারির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় । তাঁর অভিযোগ তৃণমূল প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি ভাবে একটি পরিবারের পকেটে এই টাকা ভরেছে। পাথর নিয়ে দুর্নীতির পর বালি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ে বলেন দুর্গাপুরে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আসছেন সেখানে বিভিন্ন জেলার জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি সেখানেই এই বিষয়ে সমস্ত তথ্য তুলে দেওয়া হবে, সঙ্গে তাঁর দাবি ডিসিআর কেলেঙ্কারীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি চান তারা।




