টোল গেট এবং ফেক ডিসিআর বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর নবান্ন সভা ঘরে নির্বাচিত বিজেপির বিধায়কদের নিয়ে এবং জেলাশাসকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করেছিলেন সেই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ফলোআপ বা অনুবর্তি বৈঠক হল সিউড়ি সার্কিট হাউসে ।জেলা প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বীরভূমের নির্বাচিত ছয় বিজেপি বিধায়ক এই বৈঠকে বসেন এবং এই বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বিজেপি বিধায়করা জানিয়ে দেন আগামী দিনের উন্নয়ন বিধানসভা ভিত্তিক উন্নয়ন অর্থাৎ এবার থেকে বিধায়করাই তাঁর এলাকার উন্নয়নের রূপরেখা ঠিক করবেন।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাঁইথিয়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা, ময়ূরেশ্বর এর নবনির্বাচিত বিধায়ক দুধকুমার মন্ডল ,লাভপুরের নব নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশীষ ওঝা ,রামপুরহাটের নবনির্বাচিত বিধায়ক ধ্রুব সাহা ,সিউড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং দুবরাজপুরের দুইবারের নির্বাচিত বিধায়ক অনুপ সাহা। জেলা প্রশাসনের জেলাশাসক অতিরিক্ত জেলাশাসক মহকুমা শাসকদের সঙ্গে নিয়ে জেলার রূপরেখা শোনেন নবনির্বাচিত বিধায়কদের কাছ থেকে। এই বৈঠকে স্পষ্টই প্রাক বর্ষার আগে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন চাষের জন্য সেচের অবস্থা এবং বাঁধগুলির বর্তমান অবস্থা কি তা বিস্তারিত জানতে চাওয়ার পাশাপাশি পানীয় জল, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং জেলার হাসপাতালগুলির উন্নয়নের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে নবনির্বাচিত বিধায়কদের দাবি হাসপাতাল গুলির অবস্থা গত ১৫ বছরে করুন হয়েছে বাস্তবিক হাসপাতাল গুলি শুধু “রেফার হাসপাতাল” হিসাবেই না থেকে যাতে চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানো যায় সেই দিকে নজর দেওয়ার আবেদন করেন তাঁরা। পঞ্চায়েত ও পৌর স্তরে অনেক জায়গায় কোন পরিষেবা ঠিকঠাক দেওয়া হচ্ছে না । গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মিউনিসিপালিটি এলাকায় সাধারণ মানুষের পরিষেবার যাতে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য প্রয়োজনে অফিসার দের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানানো হয়। জেলায় পাঁচটি নতুন ব্রিজের পাশাপাশি ন্যাশনাল হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চার লেন রাস্তা তৈরীর প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করার কথা তারা ঘোষণা করেন। সিউড়িতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। আবদারপুর আরওবির কাজ দ্রুত সম্পাদন হবে বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান মমতাজ সরকারের সময় দুবরাজপুরে বিজেপি বিধায়ক এর সঙ্গে বিমাতৃ সুলভ আচরণ করা হলেও তাদের সরকার বিরোধী কোন বিধায়কের সঙ্গে বিমাতৃ সুলভ আচরণ করবে না।
নতুন সরকার টোল গেট এবং ফেক ডিসিআর বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির প্রতিনিধিদল বীরভূমে জেলা শাসকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান বীরভূম জেলাতে সরকার ডিসিআর তুলবে এবং বীরভূমের যে পাঁচটি চেক গেট আছে সেই গেট গুলিতে শুধুমাত্র ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের অফিসার থাকবে না সেখানে থাকবে ল্যান্ড পুলিশ এমভিআই এবং ম্যাজিস্ট্রেট এই চার দপ্তরের সমন্বয়ে একসাথে বসে মাইকে ঘোষণা করে সরকার ডিসিআর কালেকশন করছে তা জানিয়েই ডিসিআর সংগ্রহ করা হবে। শুধু তাই নয় এরপরও যদি কোথাও ফেকটিশিয়ারের খবর পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট চার দপ্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করবে বিধায়কেরাই স্পষ্ট ভাষায় তা জানিয়ে দিয়েছেন বীরভূম বিধায়ক দলের মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরো জানান যে অবৈধ বালি খাদান বন্ধের জন্য বলা হয়েছে তবে তার সাথে সাথে ও সংবেদনশীলতার সাথে একটি মানবিক আবেদন করা হয়েছে যে গরিব মানুষের বাড়ির জন্য সস্তায় বালি দিতে হবে শুধু তাই নয় ডেউচা পাঁচামি প্রজেক্টকে ধাপ্পাবাজি প্রকল্প বলে উল্লেখ করে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন চাকরি যারা পেয়েছেন তাদের মধ্যে ট্রাইবাল এবং নন ট্রাইবাল কত প্রকৃত জমির মালিক এবং এখনো পর্যন্ত যে সমস্ত জমির মালিক হিসেবে দাবি করে আবেদন করেছেন তাদের তালিকা দিন আর যারা ইতিমধ্যেই পাট্টার মাধ্যমে কাজ পেয়েছেন তাদের মধ্যে কতজন স্থানীয় আর কতজন জেলার বাইরে হওয়া সত্ত্বেও এখানে কাজ করছেন তাদের তালিকা দিন তারপর সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে নেওয়া হবে নীতিগতভাবেই।




