রাজ্যের পদ্ম ঝড় অব্যাহত বীরভূমেও, বীরভূমে বিজেপি এগিয়ে ৬ টি আসনে আর এই ফলেই বীরভূমের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি l গত ২৩ শে এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফা নির্বাচনের বীরভূমের ১১ টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল সোমবার চার মে রামকৃষ্ণ শিল্প বিদ্যাপীঠ গণনা কেন্দ্রে ময়ূরেশ্বর সিউড়ি ,সাঁইথিয়া ও দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা শুরু হয় সকাল সকাল l বেলা যতো বাড়তে থাকে ইভিএম মেশিন খোলার সাথে সাথেই স্পষ্ট হতে থাকে ভোটের ট্রেন্ড l ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা থেকে বেশিরভাগ ভোটার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়েছে ভোটের ফলাফলে l সিউড়ি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় থেকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৯৯২৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন l
অন্যদিকে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ রায়কে একুশ হাজার দুই ভোটে পরাস্ত করেছেন বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মন্ডল। সাইথিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নিলাবতি সাহাকে পরাস্ত করেছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহা সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০৬৪৪০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহা l দুবরাজপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নরেশচন্দ্র বাউরীকে ২৭৬৪৭ ভোটে পেছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছেন বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা l
অন্যদিকে বোলপুর লাভপুর এবং নানুর বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা কেন্দ্র হল বোলপুর কলেজ, শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত বোলপুরে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ কে ২২ হাজার ৬৩৪ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিনহা l নানুরে বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস কে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝি এবং লাভপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ কে ৩৮৭৯ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ওঝা। হাসান কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ফাইজুল হক তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নিখিল ব্যানার্জীর থেকে ৩১ হাজার ৪৭০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন l রামপুরহাটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির ধ্রুব সাহা তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের আশীষ ব্যানার্জির থেকে ৩১ হাজার ১৯৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন l মুরারয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ডঃ মোশাররফ হোসেন বিজেপির রিঙ্কি ঘোষের চেয়ে ২৬,০৪৬ টি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন এবং নলহাটিতে ৪২৫৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং l
“কেষ্ট গড়ে” তৃণমূলের এমন ভরাডুবির পেছনে দলের একাংশের হঠাৎ বসে যাওয়া, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া, সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকের জন্য তোষণ এবং রাজ্যের ভোটের মেরুকরণ হওয়াকেই যেমন ধরছেন তেমনি পশ্চিমবঙ্গকে বিজেপির পাখির চোখ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, এবং বিজেপির প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা কে বিজেপির বঙ্গজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন l ভোট প্রক্রিয়া শুরুর দিন থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের নেতৃবৃন্দ যেভাবে বাংলায় বারে বারে এসেছেন, নির্বাচনী জনসভা করেছেন বিশেষ থেকে সাধারণ ভোটারদের কথা ভেবে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট প্রচার এবং রণকৌশল তৈরি করে দিয়েছেন সেই সব মেনে বঙ্গ বিজেপি যেভাবে নির্বাচনে লড়েছে তার ফল লাভ করেছে বিজেপি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে গেছে l নির্বাচনের ফল ঘোষণা সরকারিভাবে না হলেও সোমবার বিকেল থেকেই জয়ের আনন্দে গেরুয়া আবির খেলায় মেতে উঠেছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা l সন্ধ্যায় বিজেপির কার্যালয় চত্বরে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে মাতলেন উদয় শঙ্কর ব্যানার্জি l
বীরভূম জেলায় দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে বীরভূমের গ্রাম থেকে শহর l অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় এবং বীরভূমের মাটি ক্রমশ হারিয়ে যাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা অনেকটাই হতাশ l জেলার প্রায়ই ছটি আসনে তাঁরা হার দেখছেন তাই নির্বাচন গণনা কেন্দ্রের সামনে থেকে বিকেল পাঁচটার পর ফাঁকা হতে থাকে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের ভিড়।
অন্যান্য বার বীরভূমে ফলাফলের ট্রেন্ড দেখে প্রেস মিট করতেন অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু গণনার আগেই তিনি জানিয়েছিলেন ২০০ থেকে ২৩০ টি আসন তৃণমূল পাচ্ছে রাজ্যে এবং জেলায় তারা অন্ততপক্ষে দশটি আসন পাবেন এবং তা না হলে তিনি মাথা কামিয়ে নেবেন। অনুব্রতর সেই কথাকে স্মরণ করিয়ে ময়ূরেশ্বর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মন্ডল বলেন
“ফলাফল আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘোষণা হবে বিজেপির অধিকাংশ আসনে জয় নিশ্চিত রাজ্যে ক্ষমতা দখল করছে বিজেপি অনুব্রত বাবুর উচিত মাথা কামিয়ে ঘোল ঢেলে রাস্তায় নামা” এরপরেই দুধকুমার মন্ডল বলেন রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রাজ্যের সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দল এবার সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে l সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন “রাজ্যে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন নির্ভয়ে তারা ভোট দিতে পেরেছেন এবং তার ফলাফল রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করবে”। দুবরাজপুরের তৃণমূল প্রার্থী নরেশচন্দ্র বাউরি অভিযোগ করে বলেন তার বিধানসভা এলাকায় ভোট প্রচারে জেলা নেতৃত্ব সেভাবে সহযোগিতা করেননি সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করেনি তাই তার পরাজয় ঘটেছে । গ্রাম থেকে শহর অধিকাংশ সাধারণ ভোটার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন আর তার ফলে পদ্ম ফুটে উঠেছে সর্বত্রই l এখন সময়ের অপেক্ষা ‘রাম রাজত্ব’ হবে এই বাংলা।




