ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে ওস্তাদ সাবির খান ছিলেন এক অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী তবলাবাদক। তিনি মূলত ফররুখাবাদ ঘরানার (Farrukhabad Gharana) অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি ও “খলিফা” হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উত্তরপ্রদেশের রামপুরে ১৯৫৯ সালে তাঁর জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীতময় পরিবেশে বড় হন। তাঁর প্রাথমিক তালিম শুরু হয় দাদু উস্তাদ মাসিত খানের কাছে এবং পরে তাঁর পিতা উস্তাদ কেরামতউল্লা খানের কাছে।
উস্তাদ সাবির খান অত্যন্ত অল্প বয়স থেকেই মঞ্চে তবলা পরিবেশন শুরু করেন। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বহু কিংবদন্তির সঙ্গে সঙ্গত করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পন্ডিত রবিশঙ্কর ওস্তাদ আমজাদ আলী খাঁ ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁ পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া গিরিজা দেবী বেগম পারভীন সুলতানা ওস্তাদ রেজা আলী খাঁ প্রমুখ। তাঁর বাজনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল লয়ের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, স্পষ্ট বোল, শক্তিশালী রিল এবং আবেগময় উপস্থাপনা। শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেই নয়, তিনি চলচ্চিত্র জগতেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন হিন্দি, বাংলা ও দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা ও গান পরিবেশন করেছেন। কলকাতায় তিনি “উস্তাদ কেরামতউল্লা খান মিউজিক সোসাইটি” প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে বহু ছাত্রকে তবলার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে “তালমণি” উপাধি, “আফতাব-এ-তবলা”, সুর সিঙ্গার সংসদ পুরস্কার এবং সংগীত নাটক একাডেমী ।২০২৬ সালের ১৪ ই মে তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীত জগতে গভীর শোকের সৃষ্টি করে। বহু শিল্পী তাঁকে “একটি যুগের অবসান” বলে অভিহিত করেছেন।
রাঙ্গামাটির জেলা বীরভূমেও তাঁর পদধূলি পড়েছিল। ১৯৯৪ সালে দুবরাজপুর ইয়ুথ কর্নারের আয়োজনে সারা রাত্রি ব্যাপি শাস্ত্রীয় সংগীত অনুষ্ঠানে তিনি সংগত করেছিলেন ওস্তাদ রেজা আলী খাঁ -র সাথে।




