একটি ‘ফেসবুক পোস্ট ‘-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সিউড়ি শহর জুড়ে । ঘটনার সূত্রপাত সিউড়ির একটি ক্লাবে পোস্ট অফিস মারফত আসা একটি খামের মধ্যে চিঠি কে ঘিরে ,যেখানে সিউড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার জন্য আবেদন জানানোর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক এবং অশ্লীল ইঙ্গিতযুক্ত কু কথা বলা হয়েছে এক মহিলা কাউন্সিলর কে জড়িয়ে এবং আবেদনকারী হিসাবে শ্রী মোহন মিশ্রের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
সোশ্যাল মাধ্যমে ‘ফেসবুকে’ এই ইঙ্গিত পূর্ণ চিঠির বিষয়বস্ত ক্লাবের পক্ষ থেকে বিজেপির অন্যতম সক্রিয় সদস্য তথা ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তা জনসমক্ষে তুলে ধরেন আর এর ফলেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি যার জেরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘রাজনৈতিক অভিসন্ধী’ l পুরো বিষয়টি জানার পর স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর যেমন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তেমনি শ্রীমোহন মিশ্র সিউড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। দুজনেই সিউড়ি তৃণমূল পার্টি অফিসে এসে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়, কুরুচিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তাঁরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন এবং সোশ্যাল মাধ্যমে বিষয়টি এইভাবে উপস্থাপন করায় তারা মানসিকভাবে যন্ত্রণার শিকার এবং সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার । তাদের দুজনেরই দাবি তদন্ত করে দেখা হোক কে লিখেছে এই চিঠি ? পোস্ট করল কিভাবে ?একটি ক্লাবের কাছে গেল এবং সেই ক্লাবের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সদস্য ভোটের আগে কি কারনেই বা সমাজ মাধ্যমে এভাবে ছড়িয়ে দিল? বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এর পক্ষ থেকে আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে জানান সামনে ভোট তাই নোংরা রাজনীতির খেলায় নেমেছে বিরোধীপক্ষ এবং এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য একটা কাজ। ভোটযুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করতে পেরে মহিলা কাউন্সিলর কে জড়িয়ে অসম্মান করে যে রাজনৈতিক পরিবেশ কলুষিত করছে তা অপরাধের যোগ্য এবং সমাজ মাধ্যমে যেভাবে এই বিষয়গুলিকে সহজেই তুলে ধরা হচ্ছে এবং মহিলাদের অসম্মান করা হচ্ছে এর বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে একযোগে এর বিরোধিতা করা উচিত বলেও মনে করেন আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায়।
মানুষ যাতে শান্তি পূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যেকোনো রকম অশান্তি এড়াতে শক্ত হাতে মোকাবিলা করার জন্য মাঠে নেমেছে ,সেই জায়গায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এ ধরনের’চিঠি’ দিয়ে পরিবেশ কলুষিত করার একটা প্রক্রিয়া এবং এটি সুকৌশলে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছে এবং এদের পিছনের যে মাথা সকলকে অবিলম্বে সামনে আনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে তাঁরা দাবি জানিয়েছেন। মোহন মিশ্র জানান তিনি লোক মারফতে এই বিষয়টি জানতে পারেন এবং ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি স্থম্ভিত হয়ে যান । সমাজ মাধ্যমে উল্লিখিত চিঠিটি তাঁর হাতে লেখা নয় এমনকি যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে সেই ভাবনাও তাঁর হতে পারে না জানিয়ে তিনি থানার শরণাপন্ন হয়েছেন সাইবার ক্রাইমেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। শুধু তাই নয় তাঁরা নিজেরাও তৃণমূলের সমর্থক বলে দাবি করেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর পিঙ্কি দাস বলেন বিজেপি কর্মী ‘সৌনক ঘোষ’ ফেসবুকে তাঁর নাম নিয়ে চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে অসম্মান করেছেন। আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না। কাউন্সিলর আরো অভিযোগ করে বলেন তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনে প্রচুর মহিলা কর্মী দেখে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত হয়ে ওরা নোংরা অসম্মানজনক কথা বলে ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি চাইছি।
( অল নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম কোন তদন্ত করেনি ও মতামতের জন্য দায়ী নয়)




