মৃণালজিৎ গোস্বামী।
ভোট যত এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক উত্তাপে তপ্ত হচ্ছে বীরভূম। অভিযোগ পালটা অভিযোগ এ তো আছেই প্রচার কর্মসূচিতেও বিবাদমান সব প্রতিপক্ষই একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার জন্য তৎপর। ইলামবাজার থেকে মুরারই শাসক তৃণমূল শিবির বনাম বিজেপির লড়াই এবার দেখার মত। বীরভূম জেলার এগারোটি বিধানসভা ক্ষেত্রেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা । পিছিয়ে নেই কংগ্রেস , সিপিএম, মিম- আইএসএফ অথবা নতুন গড়ে ওঠা হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি সকলেই প্রচার সারছেন শেষ লগ্নে। জনমত এবং জনবল বাড়াতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে দলবদল চলছে, যোগদান বাড়ছে। সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জল চ্যাটার্জি জানান ,”প্রচারে বেরিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই আছেন আগামী তেইশে এপ্রিল ব্যালটে মানুষ বুঝিয়ে দেবে বাংলা দিদিকেই চাই “শুধু তাই নয় শুক্রবার প্রচারে বেরিয়ে পাথরচাপুরি ও রাজনগরে মিম ,আইএসএফ ও সিপিএম থেকে প্রায় ২০০ টি পরিবার তৃণমূলে যোগদান করেন । তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূল প্রার্থী উজ্জল চ্যাটার্জী এবং রাজনগরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুকুমার সাধু।


পিছিয়ে নেই বিজেপিও শুক্রবার সিউরী এক নম্বর ব্লকের হুসনাবাদ গ্রামে প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূলের প্রায় ৫০ টি পরিবারের প্রায় ৩০০ জন কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করেন । শুধু তাই নয় রাজনগর ব্লকের তাঁতীপাড়া অঞ্চলে দুলালগাছি গ্রামে , বেশ কিছু পরিবার বিজেপিতে যোগদান করেন । বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন মানুষ ২৩ তারিখ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেবে এবং সরকার গড়বে বিজেপি । এবারের ভোট মেরুকরণের ভোট বলে রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ তুলে ধরছেন কিন্তু এই বাংলায় প্রত্যেকবারের মতো এবারের নির্বাচন ‘উন্নয়ন’ কে কেন্দ্র করেই হবে বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। এবারের ভোটে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই নির্বাচন কমিশন তৎপর হয়েছেন, ভোটের দিনগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে নির্বাচন দপ্তর। শুধু তাই নয়, ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে জেলায়। বীরভূমের ১১ টি আসনের মধ্যে নজর কাড়া আসন হল সিউড়ি বিধানসভা ক্ষেত্র ,রামপুরহাট বিধানসভা ক্ষেত্র, বোলপুর বিধানসভা ক্ষেত্র, ময়ূরেশ্বর বিধানসভা ক্ষেত্র, ও হাঁসন বিধানসভা ক্ষেত্র। সিউড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উজ্জল চট্টোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্জয় অধিকারী এবং সিপিআইএম প্রার্থী মতিউর রহমান প্রত্যেকেই প্রচার সারছেন নিজেদের মতন করেই।


তৃণমূল প্রার্থী উজ্জল চট্টোপাধ্যায় আর বিজেপির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অর্থাৎ দুই চট্টোপাধ্যায়ের লড়াই ক্রমশ বেড়েই চলেছে ,তা প্রচারই হোক ,জনসভায় হোক ,পথসভায় হোক কিম্বা বিপক্ষ পার্টি থেকে কর্মী সমর্থক এনে নিজেদের দলে যোগ করানো হোক। শুধু তাই নয় দুই প্রার্থীর হয়ে দুই দলেরই মুখ্য প্রচারকরা এসেছেন নিজেদের প্রার্থীদের জয়ী করানোর আহ্বান জানাতে। কর্মী সমর্থকরা পৌঁছে গেছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের কাছে ।আগামী ২৩শে এপ্রিল বীরভূমের ১১ টি আসনেই ভোট। জয়ের হাসি কে হাসবেন তা সময় বলবে এখন শুধু প্রচারের পালা ।দিন রাত এক করে মানুষের কাছে ডোর টু ডোর যাওয়া। সব দলের প্রার্থীরা সেটাই করছেন। আর দিনের শেষে সোশ্যাল মাধ্যমে সারাদিনের ব্যস্ততা, প্রচারের নানান খন্ড চিত্র তুলে ধরছেন আশা একটাই ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণ।




